নিহত মনিরা বেগম নরসিংদী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি আদিয়াবাদ পিবিনগর এলাকার সাত্তার মিয়ার মেয়ে। সাত্তার মিয়া ডৌকারচর ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশের চাকরি করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আদিয়াবাদ পিবিনগর এলাকার বিদ্যুৎ লাইনটি নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর সদর (বিলাসদী) জোনাল অফিসের আওতাধীন। এই এলাকা দিয়ে এর আগে ১১ হাজার ভোল্টেরও একটি বিদ্যুৎ লাইন ছিল। পরে ৩৩ হাজার ভোল্টের নতুন সঞ্চালন লাইন গেলে আগের লাইনটি অকেজো হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনটি অনেকটা নিচু হয়ে গেছে। যা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস উঁচু করে না টানানোয় বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। আগের ১১ হাজার ভোল্টের লাইনটি অব্যবহৃত হওয়ায় অসাবধানতাবশত শুক্রবার সকালে মনিরা কাচা লাকড়ি (ধইনচা) নিয়ে যাওয়ার সময় ওই তারের স্পর্শ লাগে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মনিরা বেগম মারা যায়।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সদর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম-ভারপ্রাপ্ত) সাহিনুর আক্তার (এজিএম) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৩৩ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইনটি দীর্ঘদিন আগের হওয়ায় অনেকটা নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে সেটির সংস্কারে কাজ চলছে। স্থানীয় লোকজনকে অনেক নিষেধ করার পরও তারা ডেথ (অকেজো) লাইটিতে কাপড়চোপড় শুকাতে দেয়। তাদের অসাবধানতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে আমাদের কোনও গাফিলতি ছিল না।’
ডৌকার চর ইউপি সদস্য শামীম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে তার নিচু হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দরখাস্তের মাধ্যমে জানিয়েছি। কিন্তু তারা তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এ কারণে আজ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের আপত্তিতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে আনতে পারিনি। এ ব্যাপারে কেউ কোনও অভিযোগও করেনি।’