স্ত্রীকে ভারতে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদিকে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত অপর আরেকজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
বুধবার (৭ নভেম্বর) বিকালে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ) আদালতের বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বুলবুল মিয়া ভুলু (২৫) কুড়িগ্রাম সদর থানার পরঅনাজি পলাশবাড়ির ফাবেদ আলীর পুত্র। ভুলু সিলেট নগরের বাগবাড়ি নরসিংটিলার মাখন মিয়ার বাড়িতে বসবাস করছিল। এছাড়া মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার নয়াবন্দর তিলক (পূর্বতিলক) গ্রামের মৃত গউছ মিয়ার পুত্র নাছির মিয়া (২৬) বর্তমানে সিলেট নগরের বাগবাড়ি এতিম স্কুল রোডের ১৫/১ নম্বর বাসায় বসবাস করছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল।
সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ) আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক বলেন, ‘স্ত্রীকে পতিতাবৃত্তির জন্য স্বামী বুলবুল মিয়া ভুলু ভারতে পাচার করে দেয়। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর ভাই ভুলু ও তার বোনের জামাই নাছিরসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত এ মামলা থেকে নাছিরকে অব্যাহতি এবং বুলবুল মিয়া ভুলুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া আদালত ভুলুকে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন।’
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত শেষে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক পিপিএম রওশন আরা বেগম ২০০৮ সালের ৯ অক্টোবর আসামি বুলবুল মিয়া ভুলু ও নাছির মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর ২০০৯ সালের ১১ মে মামলার চার্জগঠন করে আদালত এ মামলার বিচার শুরু করেন। আদালত ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ১৩ জুন আসামি মো. বুলবুল মিয়া ভুলুর সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার রমিজ উদ্দিনের কন্যার (২১) বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পর স্বামী বুলবুল মিয়া ভুলু স্ত্রীকে পতিতাবৃত্তির জন্য ভারতে পাচার করেন। এদিকে বোনের খোঁজে ভাই শাহজাহান মিয়া ছোট বোনের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য আসামির বর্তমান বাগবাড়ি নরসিংটিলা বাসা আসেন। দীর্ঘ ৪-৫ মাস পর আবার বোনের খোঁজে শাহজাহান মিয়া তাদের ওই বাগবাড়ির বাসায় গেলে বোনের কোনও সন্ধান পাননি তিনি। এক পর্যায়ে শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ২০১২ সালে রাজশাহী অঞ্চল ভিত্তিক এনজিও সংস্থা ভারত থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে জেলার আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর করে। পরে ওই গৃহবধূকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।