রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগ তুলে এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার সহযোগী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ওমর ফারুক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। মুক্তিপণ আদায়কারীরা হলেন, একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম এবং ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাফিউর রহমান। শাফিউর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।
জানা যায়, ভুক্তভোগী ফারুককে বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরচন্ডী এলাকার একটি মেস থেকে ডেকে এনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে তিন ঘণ্টা জিম্মি করে রাখা হয়। পরে তার পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করে তাকে ছেড়ে দেন ছাত্রলীগ নেতা শাফিউর ও তার সহযোগী নাঈম।
ভুক্তভোগী ওমর ফারুক বলেন, ‘গত দুই দিন থেকে নাঈম ভাই আমাকে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে নাঈম ভাই আমাকে সোহরাওয়ার্দী হলের ১৯১ নম্বর কক্ষে শাফিউরের কাছে নিয়ে যায়। ওই সময় তারা আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে আর আমাকে শিবির কর্মী হিসেবে দাবি করে। আমি অস্বীকার করলে তারা আমাকে চড়-থাপ্পড় ও লোহার পাইপ দিয়ে মারতে থাকে।’
ফারুকের অভিযোগ, ‘পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলে তারা সিনিয়র নেতাদের কিছু জানাবে না বলে জানায়। পরে তারা আমার পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা চাইলে আমার বড় ভাই বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। টাকা পেয়ে তারা আমাকে ছেড়ে দেয় আর বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকিও দেয়। পরে আমি বিষয়টি আমার জেলা সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমানকে জানাই। ঘটনাটি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু আজ (শুক্রবার) রাতের মধ্যে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।’
ঘটনা স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা শাফিউর বলেন, ‘ফারুকের গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা তাকে শিবির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তবে টাকা নেওয়ার সঙ্গে আমি জড়িত নই। টাকা নাঈম নিয়েছে। কিন্তু এখন তাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাচ্ছি।’ নাঈমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা হলে গিয়েছিলাম। টাকা আদায়ের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়েছি। জড়িত দুইজনের মধ্যে যার কাছে টাকা সে (নাঈম) পলাতক। আমরা একজনকে (শফিউর) ধরেছি। তার মাধ্যমে আজ (শুক্রবার) রাতের মধ্যেই ফারুককে টাকা ফিরিয়ে দেবো এবং ফারুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি পুলিশকে জানিয়েছি। পরে শুনেছি ছাত্রলীগ বিষয়টি সমাধান করেছে।’