কুমিল্লায় দাফনের ৩ মাস পর কবর থেকে এক ব্যক্তির লাশ উত্তোলন



কুমিল্লাকুমিল্লার মুরাদনগরে দাফনের তিন মাস পর আলম সরকার (৪৭) নামে এক ব্যাক্তির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) লাশটি উত্তোলন করা হয়। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মেহবুব উপস্থিত ছিলেন।
আলম সরকার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
মামলার অভিযোগ ও মৃত আলমের স্ত্রী সূত্রে জানা যায়, আলম সরকার ১৪ বছর প্রবাসে ছিলেন। তার উপার্জনের সকল টাকা তিনি তার বড় ভাই আব্দুল বাতেনের ব্যাংক একাউন্টে পাঠাতেন। বিদেশ থেকে ফেরত এসে সেই টাকার হিসেব চাইলে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে পৈতৃক জমি ভাগ বাটোয়ারা নিয়েও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মৃত আলম স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান নিয়ে আলাদা বসবাস করছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান দেন। গত ৩০ জুলাই সোমবার সকালে তার স্ত্রী সালমা আক্তার দোকানে গিয়ে স্বামীর মৃতদেহ দেখতে পায়। তার পাশে ছেড়া বালিশ, শরীরে আঘাতের চি‎হ্ন দেখে সালমা মনে করেন স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ফলে সালমা আক্তার ভাশুর আবদুল বাতেন ও তার দুই ছেলে হাসান এবং মামুনের নামে কুমিল্লা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। সালমা উত্তোলন পূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতে আবেদন করার পর আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইফরানুর রহমান চৌধুরী লাশ উত্তোলন পূর্বক ময়নাতদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন এবং রহস্য উদঘাটনের জন্য কুমিল্লা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে দায়িত্ব দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের উপ-সহকারী বেলাল আহমেদ বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করেছি। রির্পোটের পাওয়ার পর পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে।’