দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ১২ নভেম্বর কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে। ওইদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমে খালেদ জিয়ার পক্ষে ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনে মনোয়নয় ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বগুড়া-৬ (সদর) ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের ফরম সংগ্রহ করেন। জিয়া পরিবারের নির্ধারিত বগুড়া ৬ ও ৭ আসনে অন্য কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকেন। সবাই লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে বগুড়া সদর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল দুটি আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।
বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণের শেষ দিন ১৬ নভেম্বর শুক্রবার তারেক রহমানের নির্দেশে বগুড়া-৬ আসনে চেয়ারপারসনের (খালেদা জিয়া) উপদেষ্টা বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন ও সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বগুড়া-৭ আসনে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। এ আসনের উপ-নির্বাচনে কয়েকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর মনোনয়ন সংগ্রহের কথা শোনা গেলেও তিনি ফোন না ধরায় তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়া নির্বাচন না করলে সেখানে লালু সরাসরি প্রার্থী হবেন।
মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমাকারী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন এবং গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টন জানান, তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে শুক্রবার মনোনয়ন সংগ্রহের পর জমা দিয়েছেন। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলেই কেবল তারা দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বগুড়া ৬ ও ৭ আসনে দলীয় মনোনয়ন জমাদানকারী বিএনপি নেতা সরকার বাদল বলেন, ‘দুটি আসনেই আমার জনপ্রিয়তা আছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। তাই আমি আগেই দুটি আসন থেকেই মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দিয়েছি। আমরা সবাই চাই জিয়া পরিবারের এ দুটি আসনে খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের যে কেউ নির্বাচন করুন। কিন্তু সেটা সম্ভব না হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো। এক্ষেত্রে হাইকমান্ড আমাকে যেখানে নির্বাচন করতে বলবে সেখানেই অংশ নেবো।’
দলের দায়িত্বশীল সূত্র আরও জানান, মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন শুক্রবার বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বেলাল হোসেন বেলাল নামে একজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ ও সাবেক কুটনীতিক ড. মুহাম্মদ সিদ্দিকী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, হাইকমান্ড চাইলে তিনি নির্বাচন করবেন।