সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে বেনাপোল বন্দরের সোনালী ব্যাংক বুথে যাত্রী প্রতি ৪১ টাকা থেকে ৪৫ টাকা হারে কর আদায় করতে দেখা যায়। যেখানে পাঁচ বছরের নিচে শিশু, ক্যানসার রোগী, প্রতিবন্ধী, পঙ্গু ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত ভ্রমণে বন্দরের ফি মওকুফ ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৪ থেকে ৬ হাজার যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ যাত্রী চিকিৎসার জন্য ভারত যান। ভারতীয় যাত্রীরা যারা বাংলাদেশে আসেন ভারত সরকার তাদের কাছ থেকে কোনও ভ্রমণ কর আদায় করে না। কিন্তু বাংলাদেশিরা ভারতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ সরকার যাত্রী প্রতি ৫০০ টাকা ও বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে ভ্রমণ কর আদায় করে থাকেন। তবে পাঁচ বছরের নিচে শিশু, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, পঙ্গু, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ সরকার ভ্রমণ কর মওকুফ করলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে বন্দর কর বাধ্যতামূলক করেছে।
বেনাপোল চেকপোস্টের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের বুথ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ মোট ৫৪১ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে প্রথম থেকেই ৫ বছরের নিচে শিশু, ক্যানসার রোগী, পঙ্গু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী পাসপোর্ট যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ভ্রমণ কর মওকুফ ছিল। চলতি সপ্তাহে বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব যাত্রী প্রতি ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে ভ্রমণ কর আদায়ের নির্দেশনা দেন।
খুলনা থেকে আসা রেশমা বেগম একজন ক্যানসার রোগী। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য আমার সহায়-সম্বল সব শেষ। এখন লোকের কাছ থেকে হাত পেতে যা পাই তাই নিয়ে ভারত যাই। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ভারতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি। ভ্রমণ করসহ কোনও খরচ আমার কাছ থেকে নেওয়া হয় না। আজ হঠাৎ বন্দরের গেটে দাঁড়ানো আনসার সদস্য বন্দর কর ছাড়া আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিলেন না। পরিশেষে ৪৫ টাকায় বন্দর কর দিয়ে ভারত যাচ্ছি।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস জানান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই বন্দর কর চালু করা হয়েছে। এখন থেকে সব ধরনের যাত্রীদের ভারতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে বন্দরের এই কর পরিশোধ করতে হবে।