যে কারণে লক্ষ্মীপুরের ৪ আসনে আ.লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন ৭০ জন

একাদশ-জাতীয়-সংসদ-নির্বাচনদলীয় কোন্দল, প্রভাবশালী প্রার্থীদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নেওয়া, আগামী দিনে দলীয় পদ ও উপজেলা পৌর র্নিবাচনে নিজেদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করার মতো বিভিন্ন কারণে লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন ৭০ জন। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের  মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হচ্ছেন  ১৬ জন। বাকি ৫৪ জন প্রার্থী আগামী দিনের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের পরিচিতি বাড়াতেই মনোনয়নপত্র কিনেছেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রকারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুব আলম মাহবুব। তিনি বলেন, ‘দলের দুর্দিনে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। ২০১৭ সালে রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলো না । তারা দলীয় পদ পেয়েছে। যারা দলের জন্য শ্রম ঘাম দিয়েছে তাদের মূল্যয়ন করা হয়নি।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসন থেকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে  উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান  আনোয়ার হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের  সাবেক সহ সম্পাদক এম এ মোমিন পাটওয়ারী।

লক্ষ্মীপুর-২ (সদরের একাংশ-রায়পুর)  এনআরবি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এহসানুল করিম জগলু, লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী শাহজাহান কামাল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, ঢাকা মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি  অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, সজিব করপোরেশনের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমভ।

লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর-রামগতি) আসনে আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার  লাইলী, বর্তমান এমপি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাসবিরুল হক অনু।

বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর-১(রামগঞ্জ) আসন  ও লক্ষ্মীপুর-২ (সদরের একাংশ ও রায়পুর)  আসনে আওয়ামী লীগের  বেশি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের  এক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, এ দুটি আসনে দুই জন ব্যাবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর এ কারণে এ দুটি আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। যদি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরে পড়ার জন্য টাকা পাওয়া যায়।

আবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কমিটি, লক্ষ্মীপুর পৌর কমিটি, রায়পুর উপজেলা কমিটি, রায়পুর পৌর কমিটি ও রামগতি উপজেলা কমিটির মেয়াদ ১২ বছর থেকে ১৫ বছর হয়েছে। এসব শাখার কোনও সম্মেলন হচ্ছে না, নতুন কমিটিও হচ্ছে না। রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের  কমিটি ২০০৩ সালে ৬৭টি সদস্য বিশিষ্ট করা হয়। রামগতি ভেঙে কমলনগর উপজেলা কমিটি গঠন করা হয় ২০০৮ সালে। এই কমিটি সভাপতি মারা যান চার বছর আগে। কমিটির ১৩ জন সদস্য মৃত। এভাবে ক্ষমতার ১০ বছরেও বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন না করায় পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে।

দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানান, অনেকে দলীয় মনোনয়পত্র  নিয়েছেন যদি ২০০১৪ সালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন র্নিবাচন হয় তাহলে খুব সহজে এমপি হওয়া যাবে। আবার অনেকে সামনে উপজেলা র্নিবাচন ও পৌর র্নিবাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত ও নেত্রীর কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। যেহেতু দলের বিভিন্ন  উপজেলা ও পৌর কমিটির সম্মেলন হয়নি র্দীঘদিন ধরে, তাই আগামী দিনে দলীয় পদ নিশ্চিত করার জন্যও দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন কেউ কেউ।

তবে জেলা  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন  জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে যাকে প্রার্থী দেওয়া হোক না কেন তারপক্ষেই কাজ করবে সবাই। বিভিন্ন কারণে উপজেলা কমিটি করা হয়নি। র্নিবাচনের পর সব ইউনিটের সম্মেলন করে নতুন কমিটি করা হবে।’