রংপুর-৩ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

ইভিএম (ফাইল ছবি)একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনের সব কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তে ভোটার ও স্থানীয় নেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ আসনে মহাজোট প্রার্থী এরশাদ ও তার দলের নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। একই আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রিতা রহমান ইভিএম বাতিলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা নাসরিন, গুড়াতিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আবেদ আলী ও মুন্সিপাড়ার আমেনাসহ স্থানীয়রা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেই এমন নিরক্ষর ভোটারদের পক্ষে এ পদ্ধতিতে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে না। রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৫টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ এলাকা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। ভোটারদের মধ্যে ৬০ ভাগ অশিক্ষিত। তাদের ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার কোনও প্রাথমিক ধারণা নেই। তাই তাদের ওপর হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

ইতোপূর্বে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদও একাধিকবার ইভিএমের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলেছেন। মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, ‘কোনোভাবেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ মানবো না। এটা বাতিল করতে হবে। নির্বাচন কমিশন কেন রংপুর সদর-৩ আসনকেই বেছে নিলো সেটাও ভাবার বিষয়। কারণ, এ আসনে এরশাদ বরাবরই নির্বাচন করেন।’

অপরদিকে ঐক্যফ্রন্টের সদর আসনের প্রার্থী রিতা রহমান জানান, তিনি এটা মানেন না। ইভিএমের বিরুদ্ধে তিনি অচিরেই হাইকোর্টে রিট করবেন। রংপুরসহ দেশের ৬টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ একটি চক্রান্ত। এটি হতে দেওয়া যায় না।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রংপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪২ হাজার ১শ’ ৪৯ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৪শ’ ৩৪ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৭শ’ ১৫ জন। মোট ১শ’ ৭৫টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নগরীর মুন্সিপাড়া, কুকরুল, মমিনপুর ও নাজিরের হাটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই-চারজন ছাড়া ইভিএমে ভোট প্রদানে কেউ রাজি নয়। তারা ইভিএম বাতিলের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।