সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘আলেম সমাজের এক শ্রেণির নেতারা বলেন, নারী নেতৃত্ব হারাম। আপনারা ইসলামের দৃষ্টিতে বলেন, কোথায় এটি লেখা আছে যে, নারী নেতৃত্ব হারাম। ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর নেতৃত্ব হারাম নয়। কারণ রসুল্লার (সঃ) আমলে নারীরা ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করেছিলেন। নারীর নেতৃত্ব হারাম, এই হাদিস তাদের তৈরি। এটা মোটেই ঠিক নয়।’
শনিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে জেলা শিল্পকলা মিলনায়নে ‘ধর্ম-জ্ঞান বিকাশের অন্তরায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় আলেম সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যায়, এবার তো দাঁড়িপাল্লা নেই, তাহলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেহেশত পাওয়া যাবে? দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়িয়েছিল। এরা কারা? এরা কি আসলেই মুসলামান? রসুলকে (সঃ) কোনোদিন চাঁদে দেখা গেলো না।’
তিনি বলেন, ‘তাদের শাসনামলে তারা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোনও মন্ত্রিত্ব নেয় নাই। কিন্ত তারা কৃষিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রীর পদ বা দায়িত্ব নিয়েছিল। কারণ, তারা ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য কাজ করেনি। আর আজ দেশে পাঁচশ’ ৬০টি মডেল মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম। কওমি মাদ্রসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এটা হলো শেখ হাসিনার সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, টুঙ্গির মাঠে তাবলীগ জামায়তের জায়গা করে দিয়েছেন, ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক পাঠাগারের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৮ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কারণ, তিনি গরিব-দুঃখি মানুষের সেবা করেন; এটাই তার অপরাধ! একারণে তাকে বার বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবনে চাওয়া-পাওয়ার আর কিছুই নেই। তিনি শুধু জাতির পিতার অঙ্গীকার গরিব মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চান। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য তিনি নিরলসভাবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. এরফান আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন– জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদক হাফিজুর রশিদ মঞ্জু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুজার রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুসফিকুল ইসলাম, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা, জেলা শহরের বড় মসজিদের খতিব মাওলানা আশরাফুল হক নূরী, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক আনিছুর রহমান, রামনগর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোছা, তফুরা বেগম প্রমুখ।