রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর প্রতীক তারামন বিবি’র দাফন

গার্ড অব অর্নারের মাধ্যমে বীর প্রতীক তারামন বিবিকে শেষ শ্রদ্ধামুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজিবপুর উপজেলার কাচারিপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়েছে। শনিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নার দেওয়া হয়। পরে ওই মাঠেই দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গার্ড অব অর্নার অনুষ্ঠানে বীর প্রতীক তারামন বিবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকার (বীর বিক্রম), মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) তাজ, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, সাবেক সংসদ সদস্য জাকির হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বীর প্রতীক তারামন বিবিএর আগে শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বীর কন্যা। তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের জানান, ‘কয়েক বছর ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন মা। দুই সপ্তাহ আগে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। পরে তাকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গত সপ্তাহে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।’
উল্লেখ্য, বীর প্রতীক তারামন বিবি ১৯৫৭ সালে রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবার নাম আবদুস সোহবান এবং মায়ের নাম কুলসুম বিবি। তার স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের মা।
তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নম্বর সেক্টরের হয়ে মুক্তিবাহিনীর জন্য রান্না, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা এমনকি প্রতিবন্ধী সেজে পাকিস্তানি বাহিনীর খবর সংগ্রহ করতেন। তিনি অস্ত্র হাতে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীন রৌমারী রণাঙ্গনের কোদালকাটিতে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তারামন বিবির বীরত্বের পুরস্কার তার হাতে তুলে দেয়।