একাদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে শুরু হয়ে এই যাচাই-বাছাই চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। যাচাই-বাছাইয়ে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর ৬টি আসনে ২৫ জন এবং নগরীর বাইরে জেলার ১০টি আসনে ২০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তাদের অধিকাংশই ঋণ খেলাপি, বিল খেলাপি এবং অনেকেরই তথ্যে গোঁজামিল ছিল।
মনোনয়ন বাতলি হওয়া প্রার্থীরা হলেন–
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই)
১ শতাংশ ভোট সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম, মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন ও শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া, একই আসনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার প্রমাণপত্র না থাকায় বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি)
ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামানতের টাকা জমা না দেওয়ায় জাকের পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ)
ঋণ খেলাপি হওয়ায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কাসেম ও বিটিসিএল’র টেলিফোন বিল খেলাপি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)
ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌরকর খেলাপি সামসুল ইসলাম হাশেম, এক শতাংশ ভোট সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বাকের ভূঁইয়া, একই কারণে বিএনপির প্রার্থী এ কে এম আবু তাহেরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)
দুদকের মামলার আসামি হওয়ায় বিএনপি’র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং তার ছেলে মীর মোহম্মদ হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া, এ আসনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থেকে অব্যহতি না নেওয়ায় মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৬ (ফটিকছড়ি)
ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী সামির কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৭ (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া)
ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী আবুল হাসনাত ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই কারণে ওই আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট’র (বিএনএফ) প্রার্থী মো. আব্দুল আলীমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৮ (বায়ালখালী)
টেলিফোন ও বিদ্যুৎ বিল খেলাপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যাতার সনদপত্র না উপস্থাপন করায় বিএনপির প্রার্থী এম মোরশেদ খান, নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলায় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, এক শতাংশ ভোট সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ উদ্দিন খান এবং আব্দুল মোমিন, হাসান মাহমুদ এবং ঋণ খেলাপি হওয়ায় এনপিপি’র প্রার্থী কামাল পাশার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী)
ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী সামসুল আলম, আয়-ব্যয়ের হিসাব উল্লেখ না করায় ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল খান এবং নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলার কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মোরশেদ ছিদ্দিকী মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং)
শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ও কর সার্টিফিকেট না থাকায় জাতীয় পার্টির মো. ওসমান খান, সঠিকভাবে ফরম পূরণ না করায় জাতীয় পার্টি (জেপি) আজাদ দোভাস এবং মনোনয়ন ফরম-১ এর নির্দেশনা প্রতিপালন না করায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক জাসদের প্রার্থী মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা)
নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আবু সাঈদ ও একই কারণে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. খোশাল খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া, এক শতাংশ ভোটারের সঠিক তথ্য না থাকায় একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর হাজ্জাজ, মুনতাসির কাদের এবং হলফনামায় প্রার্থীর স্বাক্ষর না থাকায় মো. জানে আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)
ঋণ খেলাপি হওয়ায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রার্থী এম এয়াকুব আলী এবং এক শতাংশ ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা)
ঋণের জামিনদার হিসেবে খেলাপি হওয়ায় বিএনএফ’র প্রার্থী নারায়ণ রক্ষিত এবং এক শতাংশ ভোটারের সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ জামাল আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ)
এক শতাংশ ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাহান, মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন ও মো. মুনিরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া)
এক শতাংশ ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ জাফর সাদেক ও আব্দুল জব্বারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)
উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার প্রমাণ না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন রিটার্নিং অফিসার বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান।
ওই সময় আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কোনও প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, অন্যায়ভাবে বাতিল না হয়, সে কারণে শতভাগ আন্তরিকতা, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে। সকাল থেকেই আমরা একটি একটি করে মনোনয়নপত্র যাচাই-যাছাই করেছি। এর মধ্যে শত কোটি টাকার ঋণ খেলাপিও আছেন। আবার লাখ লাখ টাকার বিল খেলাপিও আছেন। অনেকে যথাযথ সনদপত্রও জমা দেননি। শুধু তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছি। এরপরও তাদের নির্বাচন কমিশন ও উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে।’