হাবিপ্রবিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কর্মকর্তা ও প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ও ভর্তি পরীক্ষা স্থগিতের পর সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৪৪তম (জরুরি) সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত হাবিপ্রবি’র উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে রিজেন্ট বোর্ডের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাবিপ্রবি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের এই সভায় ১১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় শীতকালীন ছুটি বৃদ্ধি করার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ‘আগামী ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি ছিল। এই ছুটি বৃদ্ধি করে ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি হাবিপ্রবি’র মোট ৬টি হলের প্রায় ৪ হাজার ছাত্রছাত্রীকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র হালদারের কক্ষে বর্ধিত বেতনের বিষয়ে কথা বলতে যায়। এ সময় ওইসব শিক্ষকের ওপর কিছু শিক্ষার্থী হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে পরের দিন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে অনশনে যান পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষক ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন।
শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনায় আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষার্থীরাও। এমতাবস্থায় কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দুই দফায় স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হাবিপ্রবিতে ২৮ জন প্রভাষক, ১৬ জন কর্মকর্তা নিয়োগে ২৪ নভেম্বর কর্মকর্তা পদে এবং ১ ডিসেম্বর প্রভাষক পদে লিখিত নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনায় আন্দোলনে ২২ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আবার ২৫ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়। এর একদিন পরেই মঙ্গলবার আবার কর্মকর্তা ও প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়। গতকাল রবিবার (২ ডিসেম্বর) এক অফিস আদেশে আগামী ১০ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ২৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমকে মারধোর ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠে। এই অভিযোগে রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী অধ্যাপক অধ্যাপক মহসিন আলী ও আবু বক্কর সিদ্দিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। শিক্ষকদের বরখাস্তের প্রতিবাদে দুপুর ১টা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষ অবরোধ করেন। এতে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম ফিরোজ ও পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ভাইস চ্যান্সেলরকে তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই দুই শিক্ষককে বহিস্কারের ঘটনায় বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন শিক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ঢাকায় হাবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।