তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি অপরাধীর দল। তারা দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে যাতে করে অপরাধীরা তাদের দলে থাকতে পারে। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এই ধরনের দলকে চিরতরে নির্মূল করা হবে। নয়ত এমন একটা সময় আসবে যখন বিএনপি বলবে, জামায়াত বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিয়েছে।’
আজ বুধবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক যৌথ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যৌথসভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন রাজাকার-আলবদর আল শামসরা নির্বাচন করে, যখন স্বাধীন দেশে যুদ্ধাপরাধীরা নির্বাচন করে, যখন মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের সঙ্গে নির্বাচন করতে হয়, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কথা নয়। বিএনপি এই মাঠ নষ্ট করছে, বিএনপি জামায়াতের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা। তারা বিএনপির নামে জামায়াতকে, যুদ্ধাপরাধী ও আদালতের মাধ্যমে যাদের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন দিচ্ছে।’ নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে অপরাধী ও তাদের পরিবারগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিকী সাগর প্রমুখ।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘দেশে যাদের ধরা হচ্ছে তারা অপরাধী। আর অপরাধীদের ধরা গণগ্রেফতার নয়। আওয়ামী লীগ সেই দল যেখানে অপরাধ প্রমাণ নয়, বরং অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গেই রানা ও বদিকে মনোনয়ন দেওয়া হয় নাই। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাবের কারণে ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতির বল প্রধানমন্ত্রীর কাছে, ৭৫টি দলের রাজনীতিক নেতা শেখ হাসিনা। তিনি ইচ্ছা করলেই ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। এতেই প্রমাণীত হয়, সংলাপ সফল হয়েছে।’
নির্বাচনের পরিবেশ না থাকলে সব দল কীভাবে মনোনয়ন নিতে গেল এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘রিজভী দলীয় কার্যালয়কে নিজ বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন। আর মির্জা ফখরুল মিথ্যা কথা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। শুধু মিডিয়ার কল্যাণেই বিএনপি টিকে আছে, আর কোথাও বিএনপি নেই। কারণ তারা মানুষ হত্যা করে, পুলিশকে আক্রমণ করে, জ্বালাও-পোড়াও করে। বিদ্যুৎ-সিএনজি থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই দুর্নীতি করেছে। কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার মূল কেন্দ্র ছিল হাওয়া ভবন। তাই এবারে ১৬ কোটি মানুষের নিশ্বাসের বাতাসে বিএনপিকে উড়িয়ে দিতে হবে।’