অস্ত্র ও গুলি সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ- প্রসীত গ্রুপ) এর নেতা আনন্দ চাকমা ওরফে পরিচয় চাকমা। তিনি ইউপিডিএফ এর নানিয়ার চর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করে এসব তথ্য জানিয়েছেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার মহালছড়ি সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোস্তাকের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে আনন্দ চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা, কৃষ্টি-কালচার ও স্বকীয়তা রক্ষার জন্য ৩৬ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিতে যোগদান করি। কালের পরিক্রমায় বিগত ৪ বছর ধরে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের নানিয়ারচর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। এই দীর্ঘ জীবনে সব সময় ভয় ও আতংক নিয়ে জঙ্গলে জঙ্গলে কাটালেও প্রত্যাশিত সুখ পাইনি, শান্তি পাইনি। নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় দিতে পারিনি। পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। তারপরও পাহাড়ি জনগণের মুক্তি ও স্বাধিকার নিয়ে যে স্বপ্ন তাও পূরণ হয়নি। কারণ ইউপিডিএফ নেতারা এখন নিজেরাই শোষক, বিচারহীনতার অগ্রদূত এবং নির্যাতনকারী। তাদের কাছে আজ পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীই নিরাপদ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছি। আমি সরকারের কাছে আমার ও আমার পরিবারের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা চাচ্ছি।’ ইউপিডিএফের ভুল পথে পা না দেওয়ার জন্য অন্যান্যদের অনুরোধ জানান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অনুরোধ করেন তিনি।
এর আগে আনন্দ চাকমা খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহদাত হোসেন টিটুর কাছে আমেরিকার তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি হস্তান্তর করেন।