বক্তব্য রাখেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শেখ কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সদর আসনের আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান হাওলাদারসহ অন্যরা। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশের অগ্রযাত্রা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সভা শেষে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এছাড়া বরিশাল মুক্ত দিবস পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাক বাহিনী অগ্রসরমান মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে এ শহর থেকে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা থেকে বরিশালে কারফিউ জারি করেছিল পাকবাহিনী। সীমান্তে মিত্র বাহিনী আক্রমণ শুরু করার পর ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
বরিশাল শহরের বিভিন্ন সড়ক পথ চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় হানাদাররা নৌ-পথে পালাবার পরিকল্পনা করে। পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলোর একাংশ চাঁদপুরের কাছে মেঘনা মোহনায় ভারতীয় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার কবলে পড়ে এবং কিউই জাহাজসহ গানবোড ও কার্গো ধ্বংস হয়। অপর অংশ বরিশালের কদমতলা নদীতে ভারতীয় বিমানের বোমার আঘাতে পাকবাহিনীসহ নৌযানগুলো নিমজ্জিত হয়। ফলে এসব জাহাজে পলায়নরত পাক সেনা, রাজাকার কমান্ডার ও দালালরা নিহত হয়। পাক বাহিনীর শহর ত্যাগের খবরে বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসেন।