যশোরে নিজেদের তহবিলে কাজী নাবিল আহমেদের প্রচারণা চালাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

যশোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদের সঙ্গে মতবিনিময় তৃণমূল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের

যশোর জেলা সদরের ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার দেড়শ’ মুক্তিযোদ্ধা তাদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এজন্য যশোর সদর আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদের পক্ষে স্বেচ্ছায় নিজেদের অর্থে তহবিল গঠন করে প্রচারণায় নামছেন তারা।

মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর)  বেলা ১১টায় শহরের কাজীপাড়ায় ‘কাজী শাহেদ সেন্টারে’ যশোর সদর উপজেলার তৃণমূল পর্যায় থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন মুক্তিযোদ্ধারা।

মতবিনিময় সভায় তৃণমূল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, নৌকা না জিতলে এদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের আবারও অপমানিত হতে হবে। বিএনপি-জামায়াত চক্র ক্ষমতায় এলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখার স্বার্থে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনা ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলার সাবেক কমান্ডার এএইচএম মজহারুল ইসলাম মন্টুর সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় শেখ হাসিনা আছেন বলেই আমরা প্রতি মাসে সম্মানী ভাতা পাই; নইলে দুঃস্থভাতা পেতে হতো। নৌকা হারলে দেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা ফের পাকিস্তান বানানোর পায়তাঁরা করবে। এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। কেননা তারা ৭২-র সংবিধান মানে না; জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকার করে না।

মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আমাদের অনেকের সন্তান আওয়ামী  লীগের রাজনীতি করে না। তাদের বোঝাতে হবে। প্রথমে পরিবার, তারপর প্রতিবেশী, এরপর পাড়া-মহল্লায় নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে হবে। নৌকা ছাড়া আমাদের কোনও পথ নেই।

মুক্তিযোদ্ধারা ইতোমধ্যে সবাই কমবেশি অর্থ জমা করে একটি ফান্ড তৈরি করেছেন; যেখান থেকে নৌকার পক্ষে তারা নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করবেন বলে মতবিনিময় সভায় জানান।

যশোর-৩ আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা

মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নৌকা মার্কার প্রার্থী সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, আমি শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে জানি, আপনাদের কথার কতো মূল্য। সবাই আপনাদের কথাকে প্রাধান্য দেয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের চাওয়া ছিল- একটি সোনার বাংলা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের সেই সোনার বাংলা গড়তে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর আমাদের আদর্শিক লড়াই। মনে রাখতে হবে, ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নামে একাত্তরের পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে শোষণ করেছে। তাদের সময়ে জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই, গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী বোমহামলা, খুন, লুটতরাজ হয়েছে। দেশকে দুর্নীতিতে করা হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।

অন্যদিকে, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা রাজাকারমুক্ত দেশ দেখতে চাইলে, সোনার বাংলা দেখতে চাইলে, বিশ্বে নিজেদের দেশের মর্যাদা উচ্চ আসনে দেখতে চাইলে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করুন। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী মানেই কৃষিতে উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সূচকে উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষোভ নেই, নৌকার প্রতিও ক্ষোভ  নেই। সে কারণে এই ২০টি দিন আপনারা একটু কষ্ট করে নিজ নিজ এলাকায় নৌকার জন্যে ভোট প্রার্থনা করেন।

মতবিনিময়সভায় অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (বিএলএফ) যশোর জেলার প্রধান আলী হোসেন মনি, কাজী আব্দুস সবুর হেলাল, শাহাদত হোসেন, মো. খায়রুজ্জামান শরীফ রয়েল, নজরুল ইসলাম, মশিউর রহমান, আব্দুস সাত্তার, গোলাম মোস্তফা, ইসাহক আলী (লেবুতলা ইউনিয়ন), আব্দুস সাত্তার  (দেয়াড়া), আবু তাহের (চুড়ামনকাটি), সুজাউদ্দৌলাহ  (হৈবতপুর) ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মে.জে (অব.) সালাহউদ্দিন মিয়াজী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল।

মতবিনিময়সভায় যশোর সদরের ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে দেড়শ’ মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন।