গত ৩০ নভেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ৬১ বছর বয়সে মারা যান তারামন বিবি। তাঁর জীবদ্দশার ৬১ বছরকে স্মরণীয় করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এ নারীর প্রতি এই বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় বলে জানান আয়োজকরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষার্থী।
রৌমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তারামন বিবির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সজীব আল মামুন বলেন, ‘আমরা মনে করি মহীয়সী এই নারীর বীরত্ব ও দেশপ্রেমের গল্প আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।এমন দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের আজকের এই আয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত থাকবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘তারামন বিবি শুধু আমাদের গর্ব নয়, তিনি পুরো দেশবাসীর অহংকার। তিনি আমাদের আলোক শিখা। তারামন বিবি দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ। আমাদের চিন্তা ও কর্মে এই বীর প্রতীক চিরদিন বেঁচে থাকবেন।’
প্রসঙ্গত, বীর প্রতীক তারামন বিবি ১৯৫৭ সালে রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম তারামন বেগম। তার বাবার নাম আবদুস সোহবান এবং মায়ের নাম কুলসুম বিবি। তার স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নম্বর সেক্টরের হয়ে তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীর জন্য রান্না,তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা এমনকি প্রতিবন্ধী সেজে পাকিস্তানি বাহিনীর খবর সংগ্রহ করতেন। তিনি অস্ত্র হাতে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীন রৌমারী রণাঙ্গনের কোদালকাটির সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তার হাতে তুলে দেন। সরকার কুড়িগ্রাম শহরের উপকণ্ঠে হোলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ীতে জমি দেয়। ২০০৭ সালে সেখানে একটি আধাপাকা বাড়ি তৈরি করেন তৎকালীন কুড়িগ্রাম বিডিআরের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুমন বড়ুয়া। তবে তিনি নিজ গ্রাম রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুরের কাচারিপাড়ার বাড়িতেই স্বজনদের সঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটাতেন। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (১ ডিসেম্বর) শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তিনি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণেই পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হন এই বীর কন্যা।