বিএনপি-জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানে: কাজী নাবিল আহমেদ

যশোরে নির্বাচনি জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদযশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের নীতি নির্ধারকরা এখন ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানে বসে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা এঁকে চলেছে। আর দেশে বসে তাদের কতিপয় চর এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত রয়েছে।’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার বেলা ১২টার দিকে শহরের ঘোপ বেলতলা বউবাজার এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। যশোর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাবাসী এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত, শিবির, আইএসআই, কতিপয় দলছুট নেতা মিলে ঐক্যফ্রন্ট নামে এক জগাখিচুড়ি বানিয়েছে। দেশবাসী তাদের নৈরাজ্যের কথা ভোলেনি। এদেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তান বানাতে কেউই চায় না। তারা ক্ষমতায় এলেই দেশে জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই আর সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটে। তাই স্বাধীনতাপ্রিয় এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।’যশোরে নির্বাচনি জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ

গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে বিস্মিত বিশ্বনেতারা। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের কাছে এই উন্নয়নের রহস্য জানতে চান। আমাদের একটাই উত্তর। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী মানেই উন্নয়ন। আর এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে তাকে ফের দেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে।’

আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী বলেন, ‘যশোরে আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ, কোনও বিভেদ নেই। দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার একসঙ্গে মিলে যশোরের ৬টি আসনে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নিরলস কাজ করে চলেছেন।’নির্বাচনি গণসংযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভিন্নমত, রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম আলাদা থাকলেও আজ নৌকার প্রশ্নে এক হয়েছি। আজ এই মিলনমেলায় একটি বিষয় স্পষ্ট, জাতীয় রাজনীতিতে আমরা বুঝেছি- ভোট আমাদের কোথায় দিতে হবে। ড. কামাল হোসেন আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু তিনি আজ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিগুলোকে পুনর্বাসিত করার দায়িত্ব নিয়ে দেশবাসীর বিরাগভাজন হয়েছেন।’

বক্তৃতকালে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, ‘জিয়া ও খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়নে এমন কোনও কাজ করেননি যে সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। খালেদা জিয়া প্রতারণা আর চুরি মামলায় জেল খাটছেন। তার ছেলে দেশের বাইরে পালিয়ে রয়েছেন। দেশবাসী আর তাদের দুঃশাসনে ফিরে যেতে চায় না।’নির্বাচনি গণসংযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ

এবারের নির্বাচনকে সম্পূর্ণ আলাদা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে পথ দুটো খোলা। বাঁচতে হবে, নইলে মরতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে না পারলে আমাদের সামনে মহাবিপদ।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সামনে রয়েছে গত ১০ বছরের উন্নয়নের দৃশ্যমান চিত্র। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মূল মালিক জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যশোরে নৌকার মাঝি করেছেন সৎ, রুচিশীল, সুশিক্ষিত, সুদর্শন মানুষ কাজী নাবিল আহমেদকে। তাকে ভোট দিয়ে পাস করালেই আমরা শেখ হাসিনাকে পুনর্বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাবো। আপনারা সবাই তার জন্যে কাজ করবেন, ভোট দেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, আওয়ামী লীগ নেতা মোকাররম হোসেন টিপু, পৌর কাউন্সিলর মকশিমুল বারী অপু প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, অ্যাড. আবুল কায়েস, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হক, মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, ইউপি চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানাসহ দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।নির্বাচনি গণসংযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ

সমাবেশ শেষে দুপুরে যশোর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যশোর-৩ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ গণসংযোগ করেন। বউবাজার থেকে বেরিয়ে ঘোপ জেল রোড, হাসপাতাল মোড় হয়ে সেন্ট্রাল রোড পর্যন্ত তিনি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। গণসংযোগটি বিশাল মিছিলে রূপ নেয়। সেখানে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত জনতা উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট চান। ওইসময় রাস্তার দুই পাশে সাধারণ মানুষ কাজী নাবিল আহমেদকে হাত নেড়ে তাদের সমর্থন জানান।

গণসংযোগকালে তার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম আহমেদ, হুমায়ন কবীর কবু, যুবলীগ নেতা আজহার হোসেন স্বপন, স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা লুৎফুল কবীর বিজু, আনোয়ার হোসেন মুশতাক, ওয়াহিদুজ্জামান বাবলু, সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল খানসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।