সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইভিএম প্রদর্শনী

সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইভিএম প্রদর্শনীদেশের ছয়টি আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হবে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর আসনে ১৩৭টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে ভোট দেবেন তিন লাখ ৫৬ হাজার ২৬৮ জন ভোটার। এই প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরা সদর আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে। এ  সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে শুরু থেকেই ইভিএম নিয়ে নানা কৌতূহল বিরাজ করছে ভোটারদের মধ্যে। ভোটারদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের বিভ্রান্তি দূর করতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলছে ইভিএম প্রদর্শনী।   

সোমবার থেকে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে দুই দিনের প্রশিক্ষণ। এদিকে সাতক্ষীরা নবারুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পোলিং অফিসারদের দেওয়া হচ্ছে একদিনের প্রশিক্ষণ। এছাড়া সেনা সদস্যরা সদর আসনের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কীভাবে ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে হবে তা প্রচার ও প্রদর্শন করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করছেন। ইভিএম প্রদর্শনী দেখতে দলে দলে আসছেন ভোটাররা।

সদরে রাজারবাগান এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মনে জল্পনা-কল্পনার অবসান হচ্ছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এলাকায় এলাকায় চলছে ইভিএম প্রদর্শন। এতে মানুষ ব্যাপক উৎসাহিত হচ্ছে। এর আগেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইভিএম প্রদর্শন করা হয়। ইভিএম পদ্ধতি সহজ ও সময় কম লাগায় ইতোমধ্যে জেলা সদরে সাড়া পড়েছে।’সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইভিএম প্রদর্শনী

সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষণরত শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিতে খুব সহজেই ভোট দেওয়া ও নেওয়া যায়। এ পদ্ধতিতে জাল ভোটের কোনও সুযোগ নেই। এমনকি ভোট কারচুপিরও সুযোগ নেই। জনগণের আস্থা অর্জনে এ পদ্ধতি সফল হবে বলে আমরা আশা করছি।’

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো সাতক্ষীরায়ও সেনাবাহিনীর টহল শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এর আগে তারা রবিবার রাতে সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম, যুব উন্নয়ন অধিদফতর ও সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলা সদরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

অপরদিকে, সেনা টহল শুরু হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্ক অনেকটা কমে যাচ্ছে বলে জানান সাধারণ ভোটাররা।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ‘যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা সাতক্ষীরা জেলায় এসেছেন। নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।’