আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতসহ কতিপয় দলছুট লোক দেশবাসীকে প্রলোভন দেখাচ্ছে। কিন্তু তাদের অতীত দেশবাসী ভোলেনি। তাদের পেছনের ইতিহাস অন্ধকার। খুনখারাপি, লুটতরাজ, বোমা, গ্রেনেড হামলা তাদের নিত্যকার কাজ। তারা উন্নয়ন চায় না, দেশকে দুর্নীতিতে সেরা করতে চায়। দেশের সম্পদ লুট করাই তাদের মূল লক্ষ্য। দেশবাসী এখন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত বাংলাদেশ দেখতে চায়। তারা বিএনপি-জামায়াতচক্রকে প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চায়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে আর মোটে তিন দিন সময় রয়েছে। এই কদিন আমরা একটু পরিশ্রম করে সবার কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা পৌঁছে দিতে পারি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই কাজ করছি দেশকে প্রগতির পথে নিয়ে যেতে, উন্নয়নের বাংলাদেশ গড়তে। ৩০ ডিসেম্বর আমাদের মহাপরীক্ষার দিন। এদিন সকাল থেকেই প্রতিটি পাড়া ও মহল্লার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবো। সেখানে নিজেদের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সুযোগ করে দেবো।’
তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রম রোড, শংকরপুর চোপদারপাড়া, হারান কলোনি, আকবরের মোড় প্রভৃতি এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় নৌকার শত শত সমর্থক মিছিল সহকারে তাকে নিয়ে যান।
কাজী নাবিল আহমেদ আকবরের মোড় ও শংকরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত পথসভায়ও বক্তৃতা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নৌকার লিফলেট বিতরণ করেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। শংকরপুর স্কুলের পর একটি বিশাল মিছিল সহকারে কাজী নাবিল আহমেদ থানার মোড় হয়ে বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পের সামনে দিয়ে তালতলা বাজার ও সাদেকের মোড় এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
দুপুরে তিনি নাজির শংকরপুর শিশুস্বর্গ প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘গত ৫ বছরে যশোরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৯ সালের পর এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ৫০০ শয্যার যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ, বহুতল বিশিষ্ট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ভৈরব নদ খননসহ বহু স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো নির্মাণ। আরও ৫টি বছর জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশসেবার সুযোগ দিন। তাহলে দেশটাকে আমরা উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারবো।’
গণসংযোগ ও নির্বাচনি পথসভায় কাজী নাবিল আহমেদের সঙ্গে ছিলেন যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান ভিটু, আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম আহমেদ, মহিলা লীগ নেত্রী লাইজু জামান, যুবলীগ নেতা রাজিবুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা লুৎফুল কবীর বিজুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।
এদিকে নৌকার সমর্থনে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। দুপুর দেড়টার দিকে যশোর শহরের ঈদগাহ থেকে মিছিলটি বের হয়ে মুজিব সড়ক হয়ে রেলগেট হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে নৌকার প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।