সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুল হামিদ প্রমুখ।
রাহাত আরা বেগম দাবি করেন, ‘আমার মেয়েকে নিয়ে ফকিরপাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনি গণসংযোগ করছিলাম। এ সময় রাম দা ও চাপাতি নিয়ে ছাত্রলীগের একদল কর্মী অস্ত্র উঁচিয়ে আমাদের চারপাশে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে এবং ওই মুহূর্তে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। প্রথমে তাদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা রাম দা ও চাপাতি উঁচিয়ে আমার সঙ্গে থাকা কর্মীদের তাড়া করে। পরিস্থিতির চাপে আমি এলাকা ত্যাগ করি।’
বিএনপি নেতার স্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বিএনপি যাতে নির্বাচন থেকে সরে যায় তার জন্য। প্রশাসনকে বলছি, যারা পাড়ায় পাড়ায় অস্ত্রসহ গিয়ে হামলা করছে এদের সামলান। না হলে এই নির্বাচন কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু হবে না।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কি নির্বাচন করার কোনও অধিকার নেই? এ ঘটনায় আমরা শারীরিকভাবে আহত হইনি, কিন্তু মানসিকভাবে আমাদের ভেতর একটা মারাত্মক ট্রমা কাজ করছে।’
অন্যদিকে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালানোর অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। তিনি দাবি করেছেন, মির্জা ফখরুলের স্ত্রী ও কন্যাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাদেক কোরায়শি বলেন, ‘অস্ত্র নিয়ে হুমকির এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ জড়িত নয়। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার মতোই এটি সাজানো ঘটনা।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. কামরুজ্জামান সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুক দেখে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জেনেছি। সরাসরি কেউ আমার কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তারা যে নির্বাচনি প্রচার চালাবেন সেটাও আমাদের আগে জানাননি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকলে তার নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা নিই। সেটাও তো সবার জন্য নেওয়া সম্ভব না। তবে কোনও অভিযোগ থাকলে তারা আমাদের জানাতে পারেন। অথবা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি আছে, সেখানেও অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’