সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, ‘বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) ঈশ্বরদী আলহাজ হাইস্কুল মাঠে নির্বাচনি গণসংযোগকালে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের পুত্র শিরহান শরীফ তমালের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হামলা চালায়। তারা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হাবিবুর রহমান হাবিবকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আমাদের নেতাকর্মীরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করে। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা এবং ভূমিমন্ত্রীর ছেলে তমালসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হামলার ঘটনা ঘটেছে– আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন দাবির জবাবে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির মনোমালিন্য অনেক আগেই মিটে গেছে। হামলার সময় আমি নিজে ভূমিমন্ত্রীর ছেলে ও ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরীফ তমালকে লাল রঙের শার্ট পরিহিত অবস্থায় পিস্তল হাতে ঘুরতে দেখেছি। তমাল ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রনির নেতৃত্বে হাবিবুর রহমান হাবিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। হুমকি-ধামকি দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরাতে না পেরে তারা হাবিবুর রহমান হাবিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সামাদ খান, সহ-সভাপতি মাসুদ খন্দকার, যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মাসুম, আনিসুল হক বাবু, জেলা যুবদল সভাপতি মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক হিমেল রানা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থী হাবিবের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকী। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ কাজ করছে। নির্বাচনে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে পুলিশের।