রাজশাহী-২ আসনে বাদশা-মিনুর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

 

 

a155ad3bf2546465c0415311a03bbb5b-5c1b427fe6266রাজশাহী-২ সদর আসনের জুলফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা। আর পলিটেকনিক কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। তবে দুজনই নির্বাচন নিয়ে পাল্টাপাটি অভিযোগ করেছেন। ভোট দেওয়ার পর বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের বলেন, রাতেই রাজশাহীর ছয়টি আসনে ভোট হয়ে গেছে বলে আমার কাছে খবর রয়েছে। গ্রেফতার হওয়ার কারণে ৩৯টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারিনি। তারপরও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবো। ভোটের শেষ পর্যন্ত দেখবো।

মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রাতে দুটি কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করে শিবির ক্যাডাররা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গেলে তারা পালিয়ে যায়। বিএনপির প্রার্থী মিনুরা যে জঙ্গিবাদের জড়িত তার প্রমাণ আবার তারা দিয়েছে।

রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মিনুর অভিযোগের জবাবে বাদশা বলেন, পরাজয় জেনে শুধুমাত্র নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে মিনু এ ধরনের অভিযোগ করছেন। মানুষ জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে না। জঙ্গিদের মদতদাতাদের ভোট দেবে না। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। নৌকায় ভোট দিচ্ছেন। বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজশাহী-০২ (সদর) আসনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, হামলা ও ভোটদানে বাধা দেওয়ার ঘটনা চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম, হামলার অভিযোগ রয়েছে

১। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটে কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি দেখিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই নৌকা প্রতীকের সমর্থক সন্ত্রাসীরা ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

২। ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা প্রতীকের সমর্থক সন্ত্রাসীরা ও পুলিশ বুথে বুথে ঢুকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের কেন্দ্রের আশেপাশে থেকে লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এ সময় রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মহোদয় উপস্থিত থাকলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।

৩। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বিসিএসআই ল্যাবরেটরি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে, বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশ ও নৌকা প্রতীকের সমর্থক সন্ত্রাসীরা পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে এবং কেন্দ্র দখল নিয়ে জাল ভোট দিচ্ছে।

৪। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনীগঞ্জ প্রাথমিক বালক ও বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ ও তার সমর্থকরা, আতঙ্ক সৃষ্টি করে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চলমান। 

৫। ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু পরিদর্শন শেষে বের হওয়া মাত্রই কেন্দ্রে ককটেল হামলা করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা এবং পুলিশের সহায়তায় নৌকা প্রতীকের সমর্থক সন্ত্রাসীরা হামলা করে পোলিং এজেন্টদের মারধর, কয়েকজনকে গ্রেফতার, সেন্টার থেকে বের করে দিয়ে জালভোট প্রদান শুরু করেছে এবং কেন্দ্রটি দখলে নিয়েছে।