নওগাঁয় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠে এখন হলুদের ঢেউ। সরিষার এই ফলনে কৃষকের চোখেমুখে আনন্দের আভা ফুটে উঠেছে। চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্চার কারণে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঘ মাসের শেষ দিকে ও ফাল্গুনের শুরুতে ক্ষেত থেকে সরিষা তোলা শুরু হবে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষার উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং গত কয়েক বছর ধরে বাজারে সরিষার ভালো দাম থাকায় চাষিরা দিন দিন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় এবছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ২৯ হাজার ২৬৫ হেক্টর। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে মান্দা উপজেলায়। মান্দায় ৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এরপরে পত্নীতলা উপজেলায় চাষ হয়েছে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে, নিয়ামতপুরে ৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর, সাপাহারে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর, রাণীনগরে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১ হাজার ৩৯০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ১ হাজার ৭৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর ও বদলগাছী উপজেলায় ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকেরা সাধারণত ছয়টি জাতের সরিষা আবাদ করে থাকে। সেগুলো হচ্ছে উচ্চফলনশীল (উফশী) সরিষা বারী-৯, বারী-১৪, বারী-১৫, এসএম -৭৫, টরি-৭ ও সম্পদ জাতের সরিষা।
আত্রাই, রাণীনগর, মান্দা, সদর ও নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়- ফসলের মাঠগুলো সরিষা ফুলের হলুদ রঙে অপরূপ শোভা ধারণ করেছে। মাঠে পরিচর্চার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
মান্দার ভারশো ইউনিয়নের দেওল দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক জমির আলী বলেন, ‘ঠাকুমান্দা বিলের মাঝখানত (মধ্যে) হামার তিন বিঘা জমি আছে। নভেম্বর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ওই জমিত পানি জমে ছিল, তাই ধান আবাদ করতে পারিনি। ওই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পানি শুকে যাবার পর সেই জমিত সরিষার বীজ ফেলে দেই। খুব বেশি খরচ হয়নি। তারপরও সরিষা গাছত ভালো ফুল ধরিছে। আশা করিচ্ছি, ফলনও ভালো হবে।’
আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালি গ্রামের কৃষক আলম বলেন, ‘আমি গতবার দেড় বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। সরিষা বিক্রি করে পেয়েছি ৪৫ হাজার টাকা। এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। ফলন দেখে মনে হচ্ছে, গতবারের চেয়ে উৎপাদনও আরও বেশি হবে। সে কারণে এবার বেশি লাভের আশা করছি।’
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি সরিষা চাষের উপযোগী হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে। গত বছর এ উপজেলায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এবার ৭০০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এবার সরিষার উৎপাদনও বাড়বে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিৎ কুমার মল্লিক বলেন, ‘অনুকূল আবাহাওয়া ও নিবিড় পরিচর্যার কারণে এ অঞ্চলের কৃষকেরা সরিষার ভালো ফলন পেয়েছেন। জেলায় প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হচ্ছে। বাজারে সরিষার দাম বেশি থাকায় এবং ফল ভালো হওয়ায় কৃষকেরা সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়ছে।’