গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

নিহত গৃহবধূ আফরোজাগাজীপুরে এক গার্মেন্টস কর্মীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার স্বামী লাশ সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ শনিবার (৫ জানুয়ারি) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের নাম আফরোজা খাতুন (২৫)। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার জিকাবাড়ি এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

নিহত আফরোজার মামা একামত হোসেন ও স্থানীয়রা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভাওরাইদ উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে স্বপরিবারে থাকেন বিল্লাল হোসেন। প্রায় ৭-৮ বছর আগে বিল্লালের মেয়ে আফরোজার সঙ্গে জামালপুরের সানন্দবাড়ির মণ্ডলপাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের ৬ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। আফরোজা স্বামী-সন্তান নিয়ে স্থানীয় মুকুল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি গাজীপুরের সালনা এলাকার শ্যামলী পোশাক কারখানার শ্রমিক। আর তার স্বামী শাহজাহান জোলারপাড় এলাকার একটি স্টিল মিলে চাকরি করেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আফরোজা কারখানা থেকে বাসায় ফেরেন। রাতে তার সঙ্গে তার স্বামীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় তাদের সন্তান বাসায় ছিল না। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহজাহানকে বাসা সংলগ্ন সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলে আফরোজার লাশ ফেলতে দেখে নিহতের মামাতো ভাই মুকুল ও মুকুলের শ্যালক খোকন। তারা বিষয়টি স্থানীয় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মঞ্জুর হোসেনকে জানান। পরে স্থানীয়রা ওই ট্যাঙ্ক থেকে আফরোজার লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ শনিবার ভোরে লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। আফরোজা সৌদি আরবে দুই বছর চাকরি শেষে গত ৩-৪ মাস আগে দেশে ফিরে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ উদ্দিন জানান, নিহতের গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার চিহ্ন রয়েছে। আফরোজা সম্প্রতি পরকীয়ায় জড়িয়েছে এমন সন্দেহে গত কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। এর জেরে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে শাহজাহান পলাতক রয়েছেন।