মহাস্থান হাট

শীতের সবজিতে ঠকছেন কৃষকেরা, মধ্যস্বত্বভোগীরাই লাভবান

বিক্রির জন্য হাটে আনা ফুলকপি (ছবি– প্রতিনিধি)শীতের সবজির ভালো আবাদ হয়েছে। তাই উত্তরাঞ্চলে সবজির বড় পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণ সবজি বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। তবে পরিবহন খরচ ও হাটের খাজনার দোহাই দিয়ে কৃষকদের কম দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে অনেক কৃষক লোকসান গুনছেন। আর শেষ পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরাই।

মহাস্থান হাটে আসা কৃষক, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রতিদিনই হাটে শাকসবজির দাম কমছে। গত কয়েক দিনে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে শিম, ফুলকপি ও মুলার।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলায় শীত মৌসুমে দুই লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন শাকসবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি শাকসবজির ফলন হবে বলে আশা।

মহাস্থান হাট সূত্র জানায়, কৃষকেরা প্রতি কেজি ফাটল ধরা পাইকারি আলু বিক্রি করছেন ১৫-১৮ টাকা দরে, যা বাইরে নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিক্রি করছেন ২০-২৫ টাকা দরে। গোল বেগুন প্রতি কেজি ১০-১২ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা, যা বাইরে ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। সাদা বেগুন কৃষকের কাছ থেকে ১৫ টাকায় কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকায়। শিম (সুফলা আনাচ) ৩-৫ টাকা কেজিতে কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। মটরশুটি ১২-১৪ টাকায় কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকায়। টমেটো ১৫ টাকা কেজিতে কিনে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন পেঁয়াজ ১৫-১৭ টাকা কেজিতে কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকায়। অন্য জেলা থেকে আসা কাঁচা মরিচ ২২ টাকা কেজিতে কিনে হাটে বিক্রি করা হচ্ছে ৩০ টাকায়। গাজর ১২-১৫ টাকা কেজিতে কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকায়। ফুলকপি ৫-৬ টাকা কেজিতে কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়। মুলা ৫ টাকা কেজিতে কিনে ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। দুই থেকে আড়াই কেজির একটি পাতাকপি কৃষকের কাছ থেকে ৫-৬ টাকায় কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকায়। প্রতিটি লাউ (পানি লাউ) ২০-২২ টাকায় কিনে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ২০০ গ্রামের প্রতি আঁটি পালং ও পুঁইশাক ২-৩ টাকায় কিনে ৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

শিবগঞ্জের মহাস্থান গড় এলাকার কৃষক মাহমুদুল হাসান জানান, তারা শাকসবজির ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বরং তাদের কাছ থেকে কিনে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা ভালো লাভ করছেন। আর এই শাকসবজি শহরে বা আশপাশের হাট-বাজারে খুচরায় প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি চলছে।

মহাস্থান হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা অভিরামপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম, চকরামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আবদুল খালেকও একই কথা জানান।

এ ব্যাপারে ফড়িয়া ব্যবসায়ী (মধ্যস্বত্বভোগী) শাহিনুর, আমিরুল, শফিকুল জানান, তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনছেন। অতিরিক্ত খাজনা, পরিবহন খাতে অধিক ব্যয়সহ নানা কারণে তারা কম দামে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

‘সততা বাণিজ্যালয়’-এর আড়তদার আব্দুল বারী বলেন, এ অঞ্চলে ব্যাপক সবজি চাষ হয়ে থাকে। এখন ভরা মৌসুম। তাই প্রতিদিনই দাম কমছে। এছাড়া কাঁচামাল পচনশীল হওয়ায় কৃষক অনেক সময় বাধ্য হয়েই পানির দরে শাকসবজি বিক্রি করছেন।