যশোরের মণিরামপুরে মুক্তিপণের দাবিতে শিশুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত বিল্লালের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকাল ৫টার দিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিল্লালের বাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আগুনে বাড়িটির তিনটি বসতঘর, আসবাবপত্র, একটি ভ্যানসহ অন্য সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে শিশু তারিফের লাশ বাড়িতে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা অপহরণকারী বিল্লালের বাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিশু তারিফ হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।’ মণিরামপুর থানার পরিদর্শক সহিদুল ইসলামকে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলেও জানান।
এর আগে যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, গত ৬ জানুয়ারি মণিরামপুর উপজেলার খেদাইপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র তারিফ নিখোঁজ হয়। এরপর তারিফের বাবার কাছে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসলে তিনি ৭ জানুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে বিল্লালকে শনাক্ত করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তারিফকে উদ্ধারে সাতনল এলাকায় যায় পুলিশের একটি দল। এসময় অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এসময় অপহরণকারী চক্রের গুলিতেই নিহত হয় বিল্লাল।
তিনি আরও জানান, এদিন ভোর রাত ৪টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে খেদাইপুর কালভার্টের নিচ থেকে অপহৃত শিশু তারিফের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন–
যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অপহরণকারী নিহত, অপহৃত শিশুর লাশ উদ্ধার