ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে এবার আন্দোলনে নেমেছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বুধবার সকালে তারা ড. এম. ওয়াজেদ ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন, যা বেলা ২টা পর্যন্ত চলে। এসময় তারা আগামী বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা চালু করার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ১৪ নভেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষক বেতন বৈষম্য, শিক্ষক লাঞ্ছিতকারীদের বিচার, প্রক্টর-রেজিস্ট্রারের বহিষ্কার ও ২ শিক্ষকের বহিষ্কারাদেশের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় একমাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ৬ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একমাস বন্ধের মধ্যে শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়ে কোনও সুরাহা না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলেও গত ৪ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। প্রায় ২ মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকালে এম. ওয়াজেদ ভবনে তালা দিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তায় বসে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। পরে বেলা ২টায় একদিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের সময় বেধে দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তারা।
মীর মুকুট নামে এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটসহ ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ এর শিক্ষার্থী সজিব চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কারও বিরুদ্ধে না। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শিক্ষক ও প্রশাসন সমঝোতায় আসবে বলে আশা আমাদের।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. এসএম হারুন-অর রশিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করলেও প্রশাসন আলোচনার ব্যবস্থা করছে না। যার কারণে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আলোচনায় বসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবির ব্যাপারে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। যাতে সেশনজটের কবল থেকে মুক্তি পাবে শিক্ষার্থীরা।’
উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম জানান, বেতন-বৈষম্যের বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। শিক্ষকদের লাঞ্ছনা, নারী শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি ও ২ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।