সুবর্ণচরে ধর্ষণের ঘটনায় আরও একজনসহ ৮ জনের স্বীকারোক্তি

নোয়াখালী

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের চর মধ্য বাগ্যা গ্রামে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় মুরাদ (২৫) নামে এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সোমবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে ২ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে। এই নিয়ে আটক ১১ আসামির মধ্যে ৮ জন ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলো।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার আদালত আরও ২ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মূল ইন্ধনদাতা রুহুল আমিন (সাবেক মেম্বার) ও মূল হোতা হাসান আলী ভুলুর ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে রুহুল আমিনকে ২ দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ ও হাসান আলী ভুলুর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।         

জানা যায়, পুলিশের তদন্তে নাম আসায় ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়ার একটি ইটভাটা থেকে মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়। মুরাদ চর মধ্য বাগ্যা গ্রামরে মো. রফিকের ছেলে।  

প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে ৬ জনকে আটক করা হয়। এরা হলো- প্রধান আসামি মো. সোহেল (৩৫), ৩ নম্বর আসামি স্বপন (৩৫), ৫ নম্বর আসামি বেচু (২৫), ৬ নম্বর আসামি বাদশা আলম ওরপে বাসু, ৭ নম্বর আসামি আবুল (৪০) ও ৯ নম্বর আসামি ছালাউদ্দিন। এছাড়া তদন্তে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলো- মূল ইন্ধনদাতা রুহুল আমিন (সাবেক মেম্বার), মূল হোতা হাসান আলী ভুলু, জসীম উদ্দিন ওরপে জইস্যা, মুরাদ ও হেঞ্জু মাঝি (২৯)।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, সোমবার বিকালে ২ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহের কাছে মুরাদ ১৬৪ ধারায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে।  এর আগে এজাহারভুক্ত আসামি ছালাউদ্দিন এবং আবুল ৭ জানুয়ারি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। গ্রেফতার এজাহারভুক্ত আসামি মো. সোহেল ও তদন্তে জড়িত সন্দেহে আটক জসিমউদ্দিন রিমান্ডের তৃতীয় দিন ৯ জানুয়ারি একই আদালতে তাদের জবানবন্দি দিয়েছে। রিমান্ডের ৪র্থ দিন ১০ জানুয়ারি মামলার তিন নম্বর আসামি স্বপন ও ৫ নম্বর আসামি বেচু একই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তদন্তে জড়িত সন্দেহে আটক হেঞ্জু মাঝি (২৯) ১২ জানুয়ারি ২ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শোয়েব উদ্দিন খান এর নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।