টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় বাদীসহ ৩ জনের স্বীকারোক্তি

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিনজনটাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রবাসীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে (৩৭) হত্যা মামলায় বাদীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১ জানুয়ারি নথখোলা পৌলীপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী ধলা মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন– নিহতের ভাই আবদুল কাদেরের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন খুকি (২৮), টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়ার ফজলুল হকের ছেলে ও তাসলিমা খাতুনের ভাই আল আমিন (১৯), বাসাইল উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার সোলায়মান মিয়ার ছেলে রহিম মিয়া (২৬)। 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১ জানুয়ারি জেলার বাসাইল উপজেলার নথখোলা পৌলীপাড়া এলাকার প্রবাসী ধলা মিয়ার স্ত্রীকে নিজ ঘরে হাত-পা বেঁধে পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে নিহত মনোয়ারা বেগমের ভাই আবদুল কাদেরের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন খুকি বাদী হয়ে ঘটনার দিনই বাসাইল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বাসাইল থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারায় গত ২৩ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ শ্যামল কুমার দত্তকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মামলার বাদী তাসলিমা খাতুনের সম্পৃক্ততা পায় ডিবি পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৮ জানুয়ারি জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তাদেরকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম, আবদুল্লাহ আল মাসুদ ও আমিনুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, আসামিরা পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর রাতে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মনোয়ারা বেগমকে প্রথমে দুর্বল করে। পরে তার নিজ ঘরেই হাত-পা বেঁধে ছুরি দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে এবং জবাই করে মনোয়ারা বেগমকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রহিম মিয়ার একটি রক্তমাখা প্যান্ট, একজোড়া জুতা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক সেবন, পরকীয়া ও টাকা আত্মসাতের জন্যই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।