ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবক আত¦হত্যা করেছেন। নিহত যুবকের নাম আনিসুর রহমান বাপ্পী(৩২) । শনিবার(০২ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পুলিশ তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। বাপ্পী কোন্ডা ইউনিয়নের দোলেশ্বর গ্রামের মজিবর মিয়ার ছেলে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই ইমরান উকিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কয়েক বছর যাবত দোলেশ্বর সততা শ্রমজীবি সমবায় সমিতি নামে মাল্টি পারপাসের ব্যবসা করে আসছিলেন বাপ্পী। সমিতির প্রায় দেড় শতাধিক সদস্য যারা নিয়মিত তার কাছে সাপ্তাহিক ও মাসিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে টাকা সঞ্চয় রাখত। মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাদের সঞ্চয়কৃত আসলসহ লাভের টাকা দিতে ব্যর্থ হয় বাপ্পী। এভাবে সদস্যদের কাছে প্রায় ৫২ লাখ টাকা ঋণী হয়ে পড়েন তিনি। পাওনা টাকার জন্য তাকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে সদস্যরা । ঋণের টাকা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে তার ঝগড়া হতে থাকে। ঝগড়ার জেরে তিনদিন আগে স্ত্রী অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে যায়।
পরে শনিবার দুপুরে নিহতের বাবা মজিবর মিয়া ছেলেকে বাড়ি বিক্রি করে ঋলের টাকা পরিশোধ করার কথা বলে। এসময় বাপ্পী তার বাবাকে বাড়ি মর্টেজ রাখার পরামর্শ দেন।
এসআই বলেন, দুপুরে পরিবারের সাথে খাবার খেয়ে বাপ্পী তাদের বাড়ির তৃতীয় তলায় তার নিজ ঘরে যায়। এসময় সে তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের পাশে একটি লোহার রডের সাথে গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। বিকেলে তার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ঘরের সামনে গিয়ে অনেক চিৎকার করেও তার কোন সাড়া পায়নি। এতে তারা থানা পুলিশকে অবহিত করলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ওই ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় বাপ্পীর লাশ উদ্ধার করি।
কোন অভিযোগ না থাকায় কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার ও দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামানের উপস্থিতে আনিসুর রহমান বাপ্পীর লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।