সাত মাসে হিলি স্থলবন্দরে ২৮ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

হিলি স্থলবন্দরচলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সদ্য সমাপ্ত হওয়া জানুয়ারি মাসেও এই স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সাত মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ১৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বন্দরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২৮ কোটি ৭ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের  (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬৯ কোটি ৩১লাখ টাকা। সে হিসাবে মোতাবেক অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাই মাসে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৫ কোটি ৩লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগস্ট মাসে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১৫ কোটি ২১লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ১৬ কোটি ১৬লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১০ কোটি টাকা। নভেম্বর মাসে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ডিসেম্বর মাসে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। জানুয়ারি মাসে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মোফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এই সাত মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ১৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আমরা আহরণ করতে পেরেছি ১১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এতে করে আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ কোটি ৭ লাখ টাকা কম পরিমাণে রাজস্ব আহরণ করেছি। এর প্রধান কারণ হলো, ভারতে ফারাক্কা ব্রিজের সংস্কার কাজ চলার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি রফতানি আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে গেছে। বন্দর দিয়ে পাথরসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি একেবারেই কম। বন্দরের মূল রাজস্বের বেশির ভাগই আসতো পাথর আমদানি থেকে। সেই পাথর আমদানি কম হওয়ার কারণেই মূলত বন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বন্দর দিয়ে বর্তমানে বেশিরভাগই পেঁয়াজ, খৈলসহ অন্যান্য কিছু পরিমাণ পণ্য আমদানি হচ্ছে যার মধ্যে পেঁয়াজের কোনও আমদানি শুল্ক নেই। তবে আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে ওপারে ফারাক্কা ব্রিজের সংস্কার কাজ শেষ হলে অর্থবছর শেষ হতে যে কয়েক মাস বাকি আছে তার মধ্যে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ রয়েছে সেটি অর্জন করতে পারবো।’