নিজের পদত্যাগের বিষয়ে প্রোভিসি ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাইস চ্যান্সেলর স্যার সকালে এক সিদ্ধান্ত নেন, বিকালে তিনি আবার সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন। বর্তমানে পাবিপ্রবিতে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। এমতাবস্থায় আমার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শহরের রাধানগর বটতলা মহল্লার একটি ছাত্রীনিবাসে ঢুকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় এক বখাটে। এ সময় ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তও করে ওই ছেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা বিক্ষোভ করে এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দাবি জানায়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারেও সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাইস চ্যান্সেলর স্যার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে গত দশ মাসে সুষ্ঠু পরিবেশে একাধারে এক সপ্তাহও বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারেন নাই। তার ব্যর্থতার দায়ভার আমি নেব কেন? প্রতিনিয়ত একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ঝামেলা লেগেই থাকে। ইতোপূর্বে জরুরি রিজেন্ট বোর্ডের সভা করে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর তা ২০ দিনের মাথায় আবারও বোর্ড সভা করে তা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চেইন অব কমান্ড একেবারে ভেঙে পড়েছে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রোভিসির আদেশ-নির্দেশ অমান্য করেন। তাই আমি মনে করি এখানে একদমই কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।’
বিকেলে ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেনি। তাদের বিশেষ অনুরোধে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি।’
এদিকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘শুনেছি প্রোভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম পদত্যাগ চেয়ে একটি আবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিয়েছেন।’ প্রোভাইস চ্যান্সেলরের আদেশ নির্দেশ অমান্য করেন কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার কোনও ক্ষমতা নেই। এখানে ভাইস চ্যান্সেলর স্যার সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার বাইরে আমি যেতে পারি না।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রোভিসি স্যারের যাওয়ার জায়গা আছে বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের অন্য কোথাও সুযোগ থাকলে আমি নিজেও এখানে থাকতাম না।বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই করুণ।’
রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ড. আব্দুল আলীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানাবিধ অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রোভাইস চ্যান্সেলর স্যারের পদত্যাগ এরই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ।’
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. রোস্তম আলী প্রোভিসির পদত্যাগ'র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম’র সঙ্গে তার একটু ঝামেলা হয়েছে। এটি বসেই সমাধান করা যেত। আমি তাকে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য বলেছি। এটি পদত্যাগ করার মতো কিছু নয়।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম চার বছরের জন্য ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর পাবিপ্রবিতে প্রোভিসি হিসেবে যোগদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর অধিকাংশ এবং শিক্ষকদের অধিকাংশ পাবনার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-শিক্ষকদের মধ্যে এ নিয়ে বিভক্তি রয়েছে।