ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ‘আশপাশের পাড়াগুলো থেকে খাবার দিয়ে এলাকাবাসী সহায়তা করলেও তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্করা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।’
এদিকে সীমান্তে শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সেখানে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি পর্যক্ষেণ টিম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টহল দল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করছে। বুধবার হেলিকপ্টারে করে এসব সদস্যদের রুমার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদুর রহমান জানান, ‘সীমান্ত এলাকায় শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টিম পাঠানো হয়েছে। শরণার্থীদের মনোভাব জানার পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত শনিবার মিয়ানমারের চীন রাজ্য থেকে ১৬৩ জন বৌদ্ধ শরণার্থী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইক্ষাং সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান নেয়। এরপর তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বুধবার আরও ৪০ জন সেখানে জড়ো হয়।
ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। এর পর থেকে আতঙ্কে খুমি, খেয়াং, বম ও রাখাইনসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সীমান্ত পথে বান্দরবান দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী মুসলমান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর কারণে দেশটি থেকে কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটি থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের জন্য শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এরমধ্যেই মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় বৌদ্ধ ও হিন্দুসহ বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এজন্য সীমান্তে বাড়তি সর্তকতা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সতর্ক সীমান্ত
মিয়ানমার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ