প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল বুধবার বিকালে স্ত্রীসহ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল ও তার অনুসারীরা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রাজিব আহমেদ রাসেলকে মারধর করেন।
এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মারধরের জেরে সন্ধ্যা ৫টা ৫০মিনিটে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার অনুসারীদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধে। এসময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা রামদা, রড নিয়ে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা করেন। দুই পক্ষের মধ্যে ছয় রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। ইট-পাটকেলের আঘাতে অন্তত ছয়জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘খেলার মাঠের পাশে আমি আর আমার স্ত্রী ফুল কিনছিলাম। সেসময় চঞ্চল ও তার অনুসারীরা এসে অতর্কিতভাবে আমার ড্রাইভারকে মারধর করে। পরে তারা আমার স্ত্রী ও আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। আমার ধারণা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের জেরেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘রাজিব আহমেদ রাসেল বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে এসে ছাত্রলীগের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে। আজ আমি তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বললে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে প্রক্টর স্যার ঘটনাস্থলে আসলে আমি সেখান থেকে চলে আসি। মারধরের ঘটনা ঘটেনি। এর কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধু ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কিছু ছেলে শহীদ সালাম-বরকত হলের সামনে এসে দোকান-পাট ভাঙচুর করে ও গুলি বর্ষণ করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের হলে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা করেছে। আবাসিক হলগুলোতে তল্লাশি চালানো হতে পারে।’
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী পদে ৬০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।