মাহাদীর লাশ নিতে চান না বাবা পিয়ার সর্দার

মাহাদীচট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে নিহত বিমান ‘ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী’ মাহাদী ওরফে পলাশের (২৩) লাশ বাড়িতে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বাবা পিয়ার জাহান সর্দার। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘পলাশ বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান। সে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা খুবই দুঃখজনক এবং আমাদের জন্য মানহানিকর। অপকর্মের জন্য পলাশের লাশ আমরা বাড়িতে আনতে চাই না।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট এবং একমাত্র ছেলে সন্তান হওয়ায় পলাশের প্রতি সবারই একটু বেশি ভালোবাসা ছিল। এজন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পলাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পিয়ার সর্দার বলেন, ‘পলাশের লাশ আমি দেখতে চাই না। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাশের খবর শোনার পর থেকে তার মা শয্যাশায়ী। তিনি কারও সঙ্গে কোনও কথা বলতে পারছেন না।’
তিনি বলেন, ‘ছেলের অবাধ্যতা গুছিয়ে দিতে আল্লাহর কাছে নামাজের পর দোয়া করতাম। আল্লাহর কাছে অনেক চেয়েছি। তাকেও অনেক বুঝিয়েছি। তবে সে কথা শোনেনি।’

পলাশের বাবা বলেন, ‘গত শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ছেলে (পলাশ) আমাকে জানায় সে আর বাংলাদেশে থাকবে না। দুবাই চলে যাবে। এ কারণে সে আমার কাছ থেকে ৫০০ দিরহাম দাবি করে এয়ারপোর্টে দেখানোর জন্য। আমি সেই টাকা জোগাড় করে দেই।’
জানা যায়, বছর দুই আগে নারী কেলেঙ্কারির মামলায় সোনারগাঁ থানায় পলাশের নামে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় ২০ দিন জেল খেটে সে জামিন পেয়েছিল।
পলাশ সোনারগাঁর তাহেরপুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। এরপর সে আর পড়াশোনা করেনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৭ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বলা হয়, ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরই বিমানটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। পরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইটে ১৩৪ জন যাত্রী ও ১৪ জন ক্রু ছিলেন। পরে কমান্ডো অভিযানে সন্দেহভাজন বিমান ‘ছিনতাইকারী’ মাহাদী নিহত হয়। বিমানে থাকা যাত্রীরা অভিযানের আগেই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।