সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু






সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজবৈরী আবহাওয়ার কারণে একদিন বন্ধ থাকার পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে ছয়টি জাহাজ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। জাহাজগুলো ফেরার সময় দ্বীপে আটকা পড়া আড়াই হাজার পর্যটককে ফিরিয়ে আনবে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসান।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে কোনও জাহাজ অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে মতে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার টেকনাফ থেকে কোনও পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়তে দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। এতে দ্বীপে বেড়াতে আসা সাড়ে তিন হাজার পর্যটক টেকনাফে আটকা পড়ে। অন্যদিকে দ্বীপে কোনও জাহাজ না যাওয়ায় সেখানে আটকা পড়ে আড়াই হাজার পর্যটক। তবে মঙ্গলবার আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় ছয়টি পর্যটকবাহী জাহাজকে দ্বীপে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়। এতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে এমভি গ্রিনলাইন-১, এমভি আটলান্টিক ক্রুজ, বে-ক্রুজ, কেয়ারি ক্রুজ, কেয়ারি সিন্দাবাদ, এলসিটি কাজল পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরে যেতে পারবে।’

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ টেকনাফ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘আবহাওয়া শান্ত হাওয়ায় অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করেছে। তবে দ্বীপে যাওয়া ও আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের পরির্দশক (পরিবহন) মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও জাহাজ যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে সে বিষয়ে নজারদারি রয়েছে।’

এরআগে, সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়েও সেখানে পৌঁছাতে পারেনি সাড়ে তিন হাজার পর্যটক। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নাফ নদের মাঝপথ থেকে পর্যটকবাহী সাতটি জাহাজকে ঘাটে ফেরানো হয়।