বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ পশ্চিম-দক্ষিণ দিক থেকে বাতাসের গতি বেড়ে আকস্মিক আঘাত হানে ঝড়টি।
বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকস্মিক ঝড়ের প্রভাবে পাথরঘাটা উপজেলা সংলগ্ন বলেশ্বর নদে মাছ ধরা ট্রলার ডুবে মো. জামাল হোসেন (২৮) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও ৩ জেলে আহত হয়। জামাল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পাথরঘাটা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আনিছুর রহমান জানান, তাদের বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে এবং খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা কিছু পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী, চরকগাছিয়া ও বান্দরগাছিয়া এলাকায়ও অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে ঝড়ে কেবল বসতবাড়ি নয়, তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া, মনসাতলী, নিমতলা, বেহালা এলাকার বিভিন্ন বাজারের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. কবীর মাহমুদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব সব সহায়তা দেওয়া হবে।’