বরগুনায় ঝড়ে ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে হাজারো মানুষ






পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে ঝড়ে বিধ্বস্ত বসত ঘরবঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আকস্মিক ঝড়ে বরগুনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরা ট্রলার ডুবে জামাল হোসেন (২৮) নামের এক জেলে নিহত হয়েছে। এছাড়া ঝড়ের তাণ্ডবে বরগুনা সদর, পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলার প্রায় তিনশ’র মতো ঘর সম্পূর্ণ ও দুইশ’র মতো ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে তিন উপজেলার হাজারো মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঝড়ে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ পশ্চিম-দক্ষিণ দিক থেকে বাতাসের গতি বেড়ে আকস্মিক আঘাত হানে ঝড়টি।

বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকস্মিক ঝড়ের প্রভাবে পাথরঘাটা উপজেলা সংলগ্ন বলেশ্বর নদে মাছ ধরা ট্রলার ডুবে মো. জামাল হোসেন (২৮) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও ৩ জেলে আহত হয়। জামাল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরের সামনে অসহায় বৃদ্ধ মালিকএছাড়া উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালমেঘা, পাথরঘাটা পৌরসভা, সদর ইউনিয়নের রুহিতা ও পদ্মা এলাকায় দেড়শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কমপক্ষে ৫ শতাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঝড়ের আঘাতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। আহতদের মধ্যে মো. কুদ্দুস (৫০), হিরু সিদকার, (৪৫), আনোয়ার হোসেন (৩৫), পান্না মিয়া (৪০), আব্দুল আজিজ (৬৫), শাহ আলম (৭০), ফরিদা বেগম (৬৫), জাহাঙ্গীর (৩৫), মতিয়র রহমানের (৫২) নাম জানা গেছে।

পাথরঘাটা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আনিছুর রহমান জানান, তাদের বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে এবং খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা কিছু পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঝড়ে ঘর এসে পড়েছে পুকুরের পাড়েবরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর জানান, বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া, গর্জনবুনিয়া ও সোনাতলা এলাকায় বিষখালী তীরবর্তী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ও ভেতরের কাছাকাছি বসবাসরত অন্তত দেড়শতাধিক ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও অবকাঠামোগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও অন্তত শতাধিত বসতি।

ঢলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী, চরকগাছিয়া ও বান্দরগাছিয়া এলাকায়ও অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে ঝড়ে কেবল বসতবাড়ি নয়, তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া, মনসাতলী, নিমতলা, বেহালা এলাকার বিভিন্ন বাজারের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. কবীর মাহমুদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব সব সহায়তা দেওয়া হবে।’