আত্রাইয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রী জাবির হল থেকে উদ্ধার, র‍্যাব ও জাবি প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি দাবি

 

অপহরণনওগাঁর আত্রাই থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে পাঁচ দিন পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাব ৫ দাবি করেছে অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারের পর তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে জাবি প্রশাসনের দাবি, জাবির হলে র‍্যাব-৫ কোনও অভিযানও চালায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই অপহৃত ছাত্রীর বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে হস্তান্তর করেছে।











র‍্যাব-৫ রাজশাহীর সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. যায়েদ শাহরিয়ার বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে নওগাঁর আত্রাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শারমিনকে (১৪) অপহরণ করা হয়। সে আত্রাই উপজেলার কাশিয়া বাড়ি গ্রামের রহিদুল ইসলামের মেয়ে। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি মেয়েটিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হল থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর শারমিনকে নাটোর র‍্যাব ক্যাম্পে নিয়ে এসে তার মা তানিয়া বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপহরণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মেয়েটির মা পাঁচ জনকে আসামি করে আত্রাই থানায় মামলা করেছেন।’ 


এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের কাছ থেকে আমি ছাত্রী হলে বহিরাগত এক কিশোরীর অবস্থানের কথা জানতে পারি। পরে বিষয়টি হল প্রভোস্টকে জানাই। হল প্রশাসন কিশোরীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিশোরীটিকে উদ্ধারে র‍্যাব যে দাবি করেছে তা ভুয়া। র‍্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও অভিযান পরিচালনা করেনি। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনও প্রকার যোগাযোগও করেনি।’

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনও ছাত্রী বহিরাগত কাউকে হলে রাখতে পারে না। এ ব্যাপারে কড়া নির্দেশনার পরও অপহৃত কিশোরী কীভাবে হলে অবস্থান করলো, কারাই বা তাকে নিয়ে আসলো তা খোঁজ করছি।'
তিনি আরও জানান, ‘আগামী ৪/৫ মার্চ হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। কিশোরীটি যে কক্ষে অবস্থান করছিল সে কক্ষের ছাত্রীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। অপহরণের ঘটনায় হলের ছাত্রীদের কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।'