সংবাদ সম্মেলনে পিচরেট কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ডোমার নেসকো কার্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা সরকারি বৈদ্যুতিক নানা সরঞ্জাম বাইরে বিক্রি ও মিল কারখানার মালিকদের অনৈতিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকার অনিয়ম করছেন। আর ১২ পিচরেট কর্মাচরীর ওপর এ দায় চাপিয়ে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে জেলা জুড়ে সিস্টেম লস বৃদ্ধি পায়। এর মাত্রা কমাতে ও চাকরি বাঁচাতে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও সহকারী প্রকৌশলী ছাইমুল হক পিচরেট কর্মচারীদের মৌখিক ও পরে লিখিত আদেশের মাধ্যমে গ্রাহকদের ভৌতিক বিল ও এনালগ মিটারে ১০০ ইউনিট বৃদ্ধি করার আদেশ জারি করেন। অফিস আদেশ পালন করতে গিয়ে পিচরেট কর্মচারীরা এনালগ মিটারে ১০০ ইউনিটের বিল বৃদ্ধি করে। এতে উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার সাধারণ গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ গ্রাহকরা অতিষ্ট হয়ে পরে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেন। পরে দুদক ১৩৪টি অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২৩ অক্টোবর/১৭ ডোমারে গণ শুনানির আয়োজন করেন। সেখানে নেসকোর কর্মকর্তারা দুর্নীতির দায় স্বীকার করে নেন এবং তা সমাধানের আশ্বাস দেন। সঙ্গে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পরে সব দায়ভার ওই ১২ পিচরেট কর্মাচরীর ওপর চাপিয়ে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ওই নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ২৮ অক্টোবর অন্যত্র (রাজশাহী) বদলি নিয়ে চলে যান। কিন্তু উচ্চ আদালতে আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সভাপতি জাভেদ জামাল বলেন, দুদকের কাছে গ্রাহকের ১৩৪টি আবেদনে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আজ ১২টি পরিবার পথে বসার উপক্রম। চাকরিচ্যুত হয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।