তিনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রুটে সাতটি জাহাজের মধ্যে বর্তমানে চারটি জাহাজ চলাচল করছে। দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকরা নিরাপদে রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’
কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রমেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধির ফলে কক্সবাজারের উপকূলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারে ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ কারণে বঙ্গোপসাগর ও নাফনদী উত্তাল আছে এবং মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবারও এ সর্তক সংকেত বলবৎ থাকতে পারে।’
পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তালের কারণে টেকনাফ থেকে কোনও জাহাজ দ্বীপে যায়নি। ফলে এর আগে দ্বীপে বেড়াতে এসে দুই হাজারের মত পর্যটক আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে তাদের ফেরত আনা হবে।’ দ্বীপে আটকা পড়া সাংবাদিক নুরুল হোসাইন বলেন, দ্বীপে ভ্রমণ করতে এসে আটকা পড়েছি। সমুদ্র উত্তাল রয়েছে, এজন্য ট্রলারও ছেড়ে যেতে দিচ্ছি না স্থানীয় প্রশাসন।’
সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সেকান্দর আলী বলেন, ‘দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোনও পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘সমুদ্র উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী কোনও জাহাজ সেন্টমার্টিনে যেতে দেওয়া হয়নি। যেসব পর্যটকরা টিকেট করেছিল তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণে এসে দ্বীপে যেসব পর্যটকরা আটকা রয়েছে, তারা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য সেখানকার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, দ্বীপে বেড়াতে এসে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করে সেজন্য হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রে কোনও পর্যটক যেন গোসল করতে না নামেন, সে বিষয়ে বিচ কর্মীদের সর্তক করা হয়েছে।’