নৌকার মিছিলে আ.লীগ নেতার গুলি, আহত ৬

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী বাজারে নির্বাচনি মিছিলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কৈলাটী বাজারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক তালুকদারের কর্মী সমর্থকরা নৌকার পক্ষে মিছিল বের করেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক ফজলুর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের নেতৃত্বে আনারস প্রতীকের পক্ষে মিছিল বের করেন তার সমর্থকরা। পরে দুটি মিছিল মুখোমুখি হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস তার ব্যক্তিগত নাইন শুটার রাইফেল থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে নৌকার কর্মী সমর্থকসহ বাজারের লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় কৈলাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সোহরাব, সদস্য বাচ্চু মিয়া, কৈলাটি ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক মো. সেলিম মিয়াসহ উভয় পক্ষের ৬-৭ জন আহত হন। আহতদের কলমাকান্দা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আত্মরক্ষার্থে আমি ৭-৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছি।’
কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘দুই প্রার্থীর মিছিল করাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, ‘দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’