পায়েল হত্যা: ৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

জামাল হোসেন, জনি ও ফয়সাল

বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (২০ মার্চ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হালিম এ আদেশ দেন।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আইয়ুব খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিন আসামি হলো– হানিফ পরিবহনের গাড়িচালক জামাল হোসেন, সুপারভাইজার জনি ও হেলপার ফয়সাল। অভিযোগ উঠেছে, এর আগে গত ১৩ মার্চ তারা ভুয়া জিম্মাদার দেখিয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়েছিল।

এর আগে এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়। ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। প্রজ্ঞাপনটি ১৬ জানুয়ারি পায় পায়েলের পরিবার। ১৩ মার্চ এর বিচার কাজ শুরু হয়।

অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বলেন, ‘তিন আসামি ট্রাইব্যুনালে এসে ভুয়া জিম্মাদার দাখিল করে জামিন নেয়। বিষয়টি বুধবার আদালতের নজরে আনা হলে ট্রাইব্যুনাল আদালতের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে আসামিদের আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনজীবী সমিতির কাছে আদেশের কপি পাঠান ট্রাইব্যুনাল।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ মার্চ আসামিরা হাইকোর্টের নির্দেশনায় স্থানীয় দুই জন ব্যক্তির জিম্মায় ২০ হাজার টাকার বন্ডে জামিননামা দাখিল করে। আদালত তা গ্রহণ করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। দুই জিম্মাদারের মধ্যে একজনের নাম শিউলি বেগম, যার ভোটার আইডি নম্বর ১৯৯১২৬৯৩৬২২০০০২৮৮। কিন্তু ওই ভোটার আইডিতে এক পুরুষের ছবি রয়েছে। এটি সন্দেহ হয় আদালতের। শিউলি বেগম পুরুষ হতে পারেন না। ট্রাইব্যুনাল এ ঘটনাকে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে মর্মে আদেশ দেন। আসামিদের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামি জামাল হোসেন, মো. জনি ও মো. ফয়সাল হোসেনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ঘটনায় আসামিদের আইনজীবী ফাহমিদা আফসানার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ট্রাইব্যুনালকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ করেন আদালত।’

সাইদুর রহমান পায়েল

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাতে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান পায়েল নিখোঁজ হন। একদিন পর ২২ জুলাই মুন্সিগঞ্জ উপজেলার ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার পুলিশ। এরপর হানিফ পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল এবং চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আরামবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাদের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানায়, গজারিয়া এলাকায় গাড়ি যানজটে পড়ায় প্রস্রাব করার কথা বলে বাস থেকে নেমেছিলেন পায়েল। বাস চলতে শুরু করলে তিনি দৌড়ে এসে ওঠার সময় দরজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে জ্ঞান হারান। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে মুখ থেঁতলে দিয়ে দায় এড়াতে ভাটেরচর সেতু থেকে নিচের খালে ফেলে বাস নিয়ে ঢাকায় চলে আসে আসামিরা।