সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে কোনও আপস নয়: ইসি কবিতা খানম

বাগেরহাটে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমনির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনও আপস করবে না। এক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা কখনও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হবে না। যদি কেউ কম জানেন তাহলে তাকে সম্পূর্ণ শিখে নিতে হবে। যদি কেউ ভুল করেন তাহলে সেটা ইচ্ছাকৃত ভুল বলে গণ্য হবে এবং তা কখনও মেনে নেওয়া হবে না।’ বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ করে দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন। নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেবে। কাউকে কোনও ধরনের অবৈধ সুযোগ দেবেন না। নির্বাচনের দিন আপনাদের কাছে ভোটে দাঁড়ানো প্রার্থীদের পরিচয় শুধু প্রার্থী, অন্য কিছু নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি স্থানীয়ভাবে অনেক জায়গায় প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা প্রভাবিত হয়ে কারও কারও পক্ষে কাজ করেন। এধরনের কাজ যদি কেউ করেন তাহলে কমিশন তাদের ক্ষমা করবে না। এ ধরনের অপরাধে কমিশনের বিশেষ আইন আছে, এমনকি আমরা ফৌজদারি আইনেও যাবো। কমিশনের অর্পিত দায়িত্ব পালনে যদি কেউ বিচ্যুত হন তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কমিশন ত্রুটি করবে না।’

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘চলতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে ব্যালটে ছাপ দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। সুতরাং আইনের বাইরে গিয়ে কোনও ধরনের কাজ করার চেষ্টা করা হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাতে তিনি যে পদমর্যাদার কর্মকতাই হোন না কেন। তাই আপনার ভোট গ্রহণে কোনও অনিয়ম করবেন না এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। কারও প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করবেন না। যদি কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আসে তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করবে। কমিশন যদি তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য প্রমাণ পায় তাহলে কমিশনের বিশেষ বিধানসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে দৃঢ়তা থাকতে হবে এবং দক্ষতার সঙ্গে সব কিছু মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য আপনাদের সহায়তার জন্য নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য থাকবেন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন সম্পর্কে জনগণের মাঝে যাতে কোনও ভুল ধারণা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাগেরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুস আলী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজী বেনজীর আহম্মেদ প্রমুখ।

আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এলক্ষে ১৮২৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।