শিগগিরই সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন: পাটমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীকশিগগিরই সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, দ্রুতই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দায়িত্বও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তালা দেওয়া রয়েছে। এর চাবি থাকে সরকারের লোকজনের হাতে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আমরাই করেছি। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের চাবি থাকবে আমাদের কাছে। কেন আমাদের কাছে সেই চাবি নেই?’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে গত চার বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন হচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা প্রাক্তন কমান্ডার হিসেবে আছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কোনও ক্ষমতা নেই। জেলাগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পরিচালনা করছেন সরকারি আমলারা (ডিসি ও ইউএনও)। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এটা অত্যন্ত অপমানজনক ব্যাপার। মুক্তিযোদ্ধাদের এসব ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের চাবি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়াসহ শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন।’নারায়ণগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানি ভাতা দেওয়া হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কর্মী আওয়ামী লীগ অন্য কারও শক্তির ওপর ভর করে রাজনীতি করে না। দ্বন্দ্ব-বিভেদ থাকলেও নিজের শক্তির ওপর ভরসা করেই আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘৭৫’এর পরে আমরা যারা রাজনীতি করতে এসেছি, কোনও চাওয়া পাওয়ার রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা রাজনীতিতে এসেছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে। আমার সেই চাওয়া পাওয়া পূরণ হয়ে গেছে। তবে পরবর্তী প্রজন্ম রাজনীতিতে আসবে দেশের অর্থনীতির মুক্তির জন্য এবং দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।’

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, ‘তারা যে কোনও সময় ছোবল মারবে।’ তিনি দলের ভেতরে থাকা দ্বিমুখী লোকদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।