দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেজেছে সিরাজগঞ্জ পৌরসভাসফলতা, ঐতিহ্য ও গৌরবের স্মৃতিগাঁথায় সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ১৫০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে ৩১ মার্চ (রবিবার)। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে পুরো শহর। লাল-নীল বাতি আর তোরণে যেন ভিন্ন এক শহর। আড়ম্বরপূর্ণভাবে সাজানো হয়েছে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ইলিয়ট ব্রিজটি। ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির পেশাদার শিল্পীদের এনে শহরের মোড়ে মোড়ে নানা আল্পনা আঁকা হয়েছে। সাজানো হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শহীদ এম মুনসুর আলী অডিটোরিয়াম ও পৌর কার্যালয়সহ পদ্মপুকুরটিও। পুরো শহরজুড়ে যেন সাজ সাজ রব।
প্রায় এক মাস থেকে পৌর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তার নিজস্ব অর্থায়নে তার সভাপরিষদ, বন্ধু-বান্ধব, স্বজন ও কলাকৌশুলিদের নিয়ে হৃদয়স্পর্শী এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দেড়শ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি, রক্তদান কর্মসূচি, গুণীজন সংবর্ধনা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সন্মাননা প্রদান।
দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেজেছে সিরাজগঞ্জ পৌরসভাসিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় দিনে রয়েছে, সাবিনা ইয়াসমিনসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীত শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক ও নৃত্যানুষ্ঠান। প্রথমরাতে রয়েছে আতোশবাজির মনোহরি দৃশ্যের আয়োজন।
প্রথম দিনে বিশেষ র্যালিতে হাতি ও পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াগাড়ির বহরে থাকছেন আমন্ত্রিত অতিথিরাসহ পৌরবাসী। পৌরবাসীর সঙ্গে র্যালিতে থাকছেন আবহমান বাংলার তাঁতি, কামার, কৃষক ও বাদক দলসহ নানা সম্প্রদায়ের লোকজন। বর্ণাঢ্য ও হৃদয়স্পর্শী এ আয়োজনকে ঘিরে এক মাস ধরেই উদ্দীপ্ত ও আলোড়িত পৌরবাসী। জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ এ আয়োজন নিয়ে বেশ প্রচার-প্রচারণাও চলছে।
দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেজেছে সিরাজগঞ্জ পৌরসভাঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকছেন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না। বিশেষ অতিথি থাকছেন, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানের বিষয়ে মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা বলেন, ‘যখন পৌরসভার দুইশ বছর বয়স হবে, তখন আমরা হয়তো অনেকেই পৃথিবীতে থাকবো না। দুইশ বছরপূর্তি হয়তো দেখতে পাবো না। তাই পৌরসবাসীর মধ্যে দেড়শ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান স্মরণীয় করে রাখতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যা ইতোপূর্বে কখনও হয়নি।