তাসভির গ্রেফতারের ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র নিন্দা

তাসভির উল ইসলাম

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভির উল ইসলামকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সরকারের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, বিএনপি করার কারণেই সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাসভির-উল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনে ২৬ জন প্রাণ হারান। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। সেই ভবনের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি কাশেম ড্রাইসেলস কোম্পানি লিমিডেট নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বলেন, ‘তাসভির উল ইসলামকে শুধু শুধু আটক করা হয়েছে। তিনি ওই বিল্ডিংয়ের মালিকও নন কিংবা তিনি ডেভেলোপারও নন। তার মালিকানাধীন অংশ থেকে অগ্নিকা-ের সূত্রপাতও হয়নি।’

রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এই নেতাকে আটক করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন,‘ তাকে আটক করা কোনও বিবেচকের মত কাজ হয়নি। আমি জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ এত অন্যায় অবিচার করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।’

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আমিমুল ইহসান বলেন, ‘এটা সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্ত। এ আগুন লাগার ঘটনায় তাসভির ভাইয়ের কোনও ভূমিকা নেই। সরকার ধরলে ডেভলোপার কম্পানিকে ধরতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের ধরতে পারে। তাসভির সাহেব ওই কয়েকটি ফ্লোর কিনে নিয়েছেন। তিনি তো জমির মালিকও নন, তিনি ওই বিল্ডিং তৈরিও করেননি।’

তিনি বলেন,‘ যদি ওই বিল্ডিং যদি ভেঙে পড়তো বা ধসে পড়তো তাহলে না হয় বুঝতাম বর্ধিত অংশের জন্য হয়েছে। কিন্তু অগ্নিকা- ঘটলো ৯ বা ১০ তলা থেকে, আর আটক করা হলো বর্ধিত অংশের মালিককে। ওই অংশের মালিকতো অংশটি কিনে নিয়েছেন, সেখানে তো আগুনও লাগেনি, এতে তিনি কিভাবে দায়ী হন। চলমান অগ্নিকান্ডের ঘটনার প্রকৃত কারণ আড়াল করতে সরকার এমন হীন তৎপরতা শুরু করেছে। আমি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সরকারের এমন তৎপরতার নিন্দা জানাই।’

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন বলেন, আমি যতদূর জানি তিনি ওই বিল্ডিংয়ের মালিক নন। তিনি কয়েকটি ফ্লাট কিনেছেন মাত্র। আমরা বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত। সরকারের উচিৎ প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করা। কিন্তু সরকার সেটা না করে প্রকৃত কারণ আড়াল করার চেষ্টা করছে। শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে তাকে (তাসভিরকে) আটক করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

২০০১-২০০৬ সালের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এফআর টাওয়ারের ১৮ তলা ভবনটিকে ২৩ তলায় উন্নীত করেন। শনিবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাসভিরের বারিধারার বাসা থেকে তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২১ তলাবিশিষ্ট বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন মারা যান।