উপজেলায় ছয়টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে তিন হাজার ৩০১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে এইচএসসি তিনটি কেন্দ্রে দুই হাজার ২২১, আলিম একটি কেন্দ্রে ১৩১, ব্যবসায় ববস্থাপনা বিষয়ে দুটি কেন্দ্রে ৯৪৯ জন।
এবারে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজ, ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ, জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, ডিমলা টেকনিক্যাল বিএমআই কলেজ, ডিমলা ফাজিল মাদ্রাসা ও খগাখড়িবাড়ি বিএমআই কলেজ কেন্দ্রে। এসব কেন্দ্রের প্রধান ফটক, কক্ষ ও কেন্দ্র চত্বর পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, পরীক্ষা কেন্দ্র সমূহে ডিজিটাল নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।
এবিষয়ে ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব হাসিম হায়দার অপু বলেন, ‘কেন্দ্র প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে সিসি ক্যামেরা লাগানোর বোর্ডের নির্দেশনা ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রের সব কক্ষে এবং কেন্দ্র এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করেছি।’ ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৯৪৬ জন। তিনি বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে সাতটি কক্ষের মধ্যে পাঁচটি কক্ষ এবং কেন্দ্র চত্বরে ইতোমধ্যে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।’
জনতা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৮২০ জন। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১২টি কক্ষে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে ও সহযোগিতায় প্রতিটি কক্ষ এবং আশপাশ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’
দুই অধ্যক্ষ বলেন, এবারে প্রথম সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্যামেরা থাকায় নকল প্রবণতা কমবে এবং কেউ অসদুপায় অবলম্বন করতে চাইলেও ক্যামেরায় ধরা পড়বে। পাশাপাশি শৃঙ্খলার বিষয়টিও নজরদারির মধ্যে থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, ‘উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে, অন্যটিতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের সময় নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নকলমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এই সিসি ক্যামেরা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষকরা চাইলেও পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনও শিক্ষার্থীকে অবৈধ পন্থায় সহযোগিতা দিতে পারবেন না। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা লাগালেও আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের এ কাজে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, নীফামারীতে ৪০টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৭১৫জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। জেলায় এইচএসসি ২৪, আলিম ৬, ভকেশনাল ১, ব্যবস্থাপনায় ৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্র গুলোতে এইচএসসি ১৪ হাজার ৮৫৯, মাদ্রাসায় বোর্ডের অধীনে ১১ হাজার ১১, ভকেশনাল ১৬৯ ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় (বিএম) চার হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করবে।