জয়ারাবাদ এলাকার মুদি দোকানি মিন্টু মজুমদার (৩৪), দিলীপ সেন (৫৫), তার স্ত্রী পুতুল সেন (৪৫), গণেশ ঠাকুর (৬০) অভিযোগ করেন, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিন অধিকারীর আনারস মার্কার পক্ষে ছিলেন। জয়ারাবাদ বাজারে তারা একটি নির্বাচনি কার্যালয়ও করেন। রবিবার ভোট গণনা শেষে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কম ভোট পাওয়ায় তাদের ওপর চড়াও হন একই এলাকার শাহীন খাঁ, রাব্বী খাঁসহ ৮-১০ জন। তারা আনারস প্রতীকের অফিস ভাঙচুরসহ বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে হামলা চালায়। ওই সময় তারা প্রথমে মিন্টু মজুমদারকে মারপিট করে। এরপর দুর্বৃত্তরা জয়ারাবাদ মজুতখালি নদীর ঘাটে যায়। ওই সময় দিলীপ সেন ও তার স্ত্রী পুতুল সেন মতুয়া সম্প্রদায়ের উৎসব ওড়াকান্দির মেলায় যাওয়ার জন্যে ট্রলারে উঠছিলেন। সন্ত্রাসীরা তাদের সেখান থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং কেন আনারসে ভোট দিয়েছে তা জানতে চায়।
এদিকে, খবর পেয়ে আজ সোমবার সকালে জয়ারাবাদে উপস্থিত হন অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীনুজ্জামান, যশোরের অতিরক্তি পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) নাইমুর রহমান, অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেনসহ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিদ্দিপাশার ইউপি চেয়ারম্যান খান এ কামালও।
এ বিষয়ে খান এ কামাল বলেন, ‘গেল সন্ধ্যায় এখানে শাহীন খাঁসহ কয়েকজন হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটায় বলে শুনেছি। সম্পর্কে তারা আমার চাচাতো ভাই। কিন্তু ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং তাদের থামাই।’
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) নাইমুর রহমান বলেন, ‘খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি। ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। এ এলাকায় নৌকা সমর্থকদের হামলায় দুই নারীসহ ৬ জন আহত হয়েছে। একজনের হাতের আঙুল ভেঙে গেছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ৩১ মার্চের উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর বিজয়ী হন।
এদিকে, ওই রাতে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের মাগুরা, কোটা, একতারপুর, বুইকরা, নলামারা ও দিঘলিয়াবাদে অনুরূপ হামলায় আরও ছয়জন আহত হন।
মাগুরা গ্রামের মাধব চক্রবর্তী বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ভোলানাথ মুস্তাফি ও আজাদ হোসাইনের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে। এরপর তারা মাগুরা বাজারের চারটি দোকান ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনি অফিসও ভাঙচুর করে।’
অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মাগুরা গ্রামে বাড়ি ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। ঘটনার পর রাতে এবং আজ সকালে আমি দু’টি স্থান পরিদর্শন করেছি।’