শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

গ্রেফতারকৃত আবদুল করিম

শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ফেনীর দাগনভূঞার খুশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম (৫৫)। রবিবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন। ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম এমরান হোসেনের আদালতে এই জবানবন্দি দেন তিনি। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালেহ আহাম্মদ পাঠান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী এ বছর জানুয়ারি মাসে প্রধান শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীর মা গত শুক্রবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থানায় মামলা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল করিমকে (৫৫) তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হয়। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা শেষে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেনি। স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসায় কোনও কাজ না হওয়ায় সম্প্রতি তাকে নেওয়া হয় ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে। সেখানে ধরা পড়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে বাড়ি ফেরার পর স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান শিক্ষক এ ঘটনায় জড়িত বলে জানায় ওই শিক্ষার্থী। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টাও করে এলাকার কেউ কেউ।

প্রসঙ্গত, দাগনভূঞার খুশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী গত জানুয়ারি মাসে প্রধান শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীর মা দাগনভূঞা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন। বর্তমানে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। অভিভাবকরা ভেবেছিলেন মেয়ের পেটে পাথর হয়েছে কিংবা পাকস্থলীর অন্য কোনও সমস্যা। তবে গত মাসে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন তাদের মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা।

 আরও পড়ুন: পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক